‘কালো মানে খারাপ’ এ ধারণা যে দেশ থেকে এসেছে | Colorism in Bangladesh | Explained by Enayet Chowdhury

বেশ কিছুদিন আগে আমাকে একজন একটা ইমেইল করে যেখানে বাংলাদেশের মিডিয়ায় গায়ের রং নিয়ে তামাশা করাটা যে খারাপ দিকে যাচ্ছে তার একটা ইঙ্গিত দেওয়া হয়! আমি আগেই বলে রাখি এখানে অভিনেতাদের দোষ দিয়ে লাভ নাই, এমনকি যারা স্ক্রিপ্ট লিখছে তাদেরকেও দোষ দিয়ে লাভ নাই। কারণ আমরা এখানে একটা সোসাইটিকে দূষিত হওয়ার কথা বলতেছি।সাম্প্রতিক সময়ে নিভিয়া এবং dove কে প্রচুর পরিমাণে গালি শুনতে হইসে কারণ ওরা ওদের বিজ্ঞাপনগুলোতে ফর্সা হওয়াকে গ্লোরিফাই করছে। Fair and lovely তো ওদের নাম চেঞ্জ কইরা glow and lovely রাখছে, যদিও এটাতে অনেকেই বলতেছে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। সবমিলিয়ে ফর্সা মানেই সুন্দর আর কালো মানেই খারাপ, এই ধারণাটির উৎপত্তি উপমহাদেশে কবে থেকে হইসে এবং কারা করছে? বাংলাদেশের মানুষজন সোসাইটিতে এরকম Colorism এর কিরকম শিকার হয় এবং এই পার্সপেক্টিভ এর সুইচিংটা কিভাবে মিডিয়া থেকে শুরু হচ্ছে? এই পুরো ব্যাপারটি আমি আজকে আলোচনা করবো, তো চলুন শুরু করা যাক।


প্রথমেই আসা যাক, ফর্সা জিনিসের প্রতি মানুষের যে এত আগ্রহ, এটার শুরুটা হইসে কোথা থেকে! ফর্সা হওয়াটা যে একটা বিউটি স্ট্যান্ডার্ড এর মধ্যে পরে, সেটাকে বলা হয় Eurocentric Beauty Standard। Caucasian যে রূপ, যেটা মূলত ফর্সা রূপ, সেটাকে সবসময় মানুষ আইডলাইজ করে। অর্থাৎ এটার মতন হইতে চায় এবং জিনিসটা আসছে ইউরোপ থেকে যেকারণে এই স্ট্যান্ডার্ড কে Eurocentric বলা হয়। আপনি যতগুলো বিখ্যাত কার্টুন ক্যারেক্টার দেখবেন যারা প্রিন্সেস বা কুইন টাইপের (যেমন সিন্ড্রেলা), এরা সবসময় কিন্তু ফর্সা হয়, কালো হয়না। যদিও সম্প্রতি মোয়ানার মত অ্যানিমেশন গুলোতে আমরা কালো Protagonists মেয়েকে দেখছি। তারপরেও ব্যাপারটা একটা লম্বা সময় ধরে Eurocentric ছিলো। উপমহাদেশে তো বলা হয় যখন colonization বা উপনিবেশবাদ আসছে, ফর্সা ব্রিটিশরা আমাদের উপর আইসা শাসন করছে, আমরাও বুঝা শুরু করছি ফর্সা হইতে পারলে বেশি দাম পাওয়া যায়। এটা খুবই সিম্পল। Colonization এর আগে উপমহাদেশের কথা যদি আপনি চিন্তা করেন, তখন আর্যরা ছিলো। আর্যদের গায়ের রং ফর্সা ছিলো এবং ওরা শাসক গোষ্ঠীর মধ্যে ছিলো। অপরদিকে যাদের গায়ের রং হালকা কালো ছিলো বা শ্যামলা ছিলো (যেমন দ্রাবিরিও জনগোষ্ঠী),ওরা কখনো সমাজের উচ্চ আসনগুলোতে বসতে পারতো না। বাহুচা কিংবা দলিত সম্প্রদায়ের লোকজনেদের বেশি বেশি শারীরিক শ্রমের মধ্যে রাখা হইত এবং ওদের গায়ের রংও কিছুটা কালো ছিলো। এমনকি পুরা দোষটা আপনি Colonization এর উপরেও দিতে পারবেন না। একটু জাপানের দিকে তাকান, ৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে Heian Era নামে একটা যুগ ছিলো। ওই যুগে যেসব জাপানিজ মেয়েদের গায়ের রং ফর্সা ছিলো, ওদেরকে মনে করা হতো খুব অভিজাত শ্রেণীর মানুষ এবং এদেরকে অনেক সম্পত্তি আছে। ওদেরকে ঘরের বাইরে সূর্যের আলোতে, অর্থাৎ গায়ের রং নষ্ট হয়ে যায় এমন কোনো জায়গাতে শারীরিক শ্রম করতে দেওয়া হতো না। আপনি চায়নার দিকে তাকান, এটা খ্রিস্টপূর্ব ২২১ থেকে ২০৬ অব্দের মধ্যে Qin Dynasty নামের একটা ডাইনেস্টিতে গায়ের রং ফর্সা হওয়াকে সম্পত্তি এবং আভিজাত্যের একটা প্রতীক হিসেবে মনে করা হতো। বুইঝা গেলেন ফর্সা হওয়াকে গ্লোরিফাই করাটা আজকের ঘটনা না, এটা অনেক আগে থেকে চলে আসছিলো! আমি আমার অডিয়েন্সের মধ্যে একটা পোল করছিলাম, ওইখানে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিলাম। যেমন মনে করেন “আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশের মানুষ বর্ণবাদ বা Body Shaming কে যতটুক গুরুত্ব দেওয়া উচিত সেটা দেয় কিনা!” ৯২.৪% মানুষ বলছে “না”। “আপনি নিজে কখনো নিজের গায়ের রঙের জন্যে Bullied হইসেন কিনা?” ৮৬.৬% লোক বলছে “হ্যা”। এটা খুবই ইন্টারেস্টিং একটা ডাটা। “আপনি কোনো বন্ধু বান্ধবী কিংবা জুনিয়রকে তার দৈহিক কোনো feature এর জন্যে রসিকতা করছেন কিনা?” ৭৪.২% বলছে “হ্যা”। ৪৭.৫% লোক বলছে এটা করার পরে তাদের অনুশোচনা হইসে, ওরা খারাপ ফিল করছিলো। ৩৮.৪% বলছে যে আগে অনুশোচনা হতো না কিন্তু এখন হয়। কিন্তু ১৪.১% মানুষ বলছে ওদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। আমি জানি আমার অডিয়েন্স এর মধ্যে ১৯% কোনো না কোনো দিক থেকে একটু আজগুবি টাইপের থাকে। ” আপনার আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে Colorism টা ছিলো কিনা!” ৬৮.২% বলছে “হ্যা”। ৭৬.২% মানুষজন বলছে ওরা রাস্তাঘাটে কিংবা পাবলিক প্লেসে Colorism ও Body Shaming লক্ষ করছে। এই সার্ভে এটলিস্ট বলতেছে যে বাংলাদেশে Colorism খুবই শক্তপোক্ত ভাবে এক্সিস্ট করে। নিউজিল্যান্ড থেকে একজন ইন্ডিয়ান ইন্ডিয়াতে বেড়াতে আসছিলেন এবং এসে এডভার্টাইজিং দেখছে গার্নিয়ার এবং লোরিয়াল এর মত ব্র্যান্ড গুলো প্রমোট করতেছে এসব জিনিস যে আপনি ফর্সা হইলে খুব সহজে চাকরি পেতে পারবেন, আপনার এচিভমেন্ট খুব দ্রুত হবে। এখানে উনি স্বীকার করছেন নিউজিল্যান্ড এর মধ্যে এই ধরনের বাজে বিদঘুটে বিজ্ঞাপন উনি জীবনেও দেখেন নাই। অথচ ব্র্যান্ড কিন্তু সেম! জুন ২০২০ সালে লোরিয়াল ওদের সকল প্রোডাক্ট থেকে “White, Fairness, Light” ইত্যাদি শব্দগুলো বাদ দিয়ে দিবে বলে প্রতিজ্ঞা করে। আমরা কিন্তু বিষুবরেখার খুব কাছাকাছি জায়গায় থাকি, আমাদের দেহের মধ্যে কিছু পরিমাণ ম্যালানিন আছে যেকারণে আমাদের গায়ের রং শ্যামলা বা কালো টাইপের হয়। এই ম্যালানিন কিন্তু আমাদেরকে সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে একপ্রকার রক্ষা করে। কিন্তু ওদের মত এই বিজ্ঞাপন গুলো আমাদের ম্যালানিন কে আমাদের অপমান হিসেবে দাঁড় করায়। Netflix এর একটা সিরিজ বের হইসিলো “Indian Matchmaking”। ওইখানেও একইভাবে মানুষজন Backlash করছে কারণ ঐখানেও ফর্সা বউ খোজার প্রতি একধরনের আগ্রহ দেখানো হইসে। একটা সময় যে Fair and Lovely ছিলো,ওরাও Fair শব্দটা বাদ দিসে। Fairness, Whiteness, Lighting এসব শব্দগুলো ওরা আর কোনো ক্যাম্পেইনে ব্যাবহার করবে না এবং ওদের ক্রিমের নাম এখন কিন্তু Glow and Lovely। যদিও অনেক বলতেছে এটা Fair and Lovely এর জাস্ট একটা repackaging, আসলে লাভের লাভ ওদের কিছুই হয়নি। এটা নিয়ে মত-দ্বিমত থাকতেই পারে। একই ধরনের অভিযোগ নিভিয়া, হাইনিকেন এবং ডাভের ক্ষেত্রেও কিন্তু করা হইসিলো। USA তে একটা CNN কমিশন স্টাডির মধ্যে দেখা যায়, যত শেতাঙ্গ বাচ্চারা আছে, ওরা শেতাঙ্গ বাচ্চাদের বেশি প্রেফার করে! ওদের সাথে বেশি বন্ধু হইতে চায়। যাদের গায়ের রং কালো, তাদের সাথে ওরা বন্ধু হইতে চায় না। ওরা যত বড় হয়, ততই এটা ওদের মনে আরো গেথে যাইতে থাকে। আরেকটা স্টাডিতে টোটাল ৪০০০ মানুষের উপর এই সার্ভে করা হইসে, দেখা গেছে যাদের গায়ের রং ফর্সা তারা কৃষ্ণাঙ্গ লোকের থেকে বছরে প্রায় ০.৫ মিলিয়ন ডলার বেশি ইনকাম করতেছে। জর্জ ফ্লয়েড মারা গেছে, কিন্তু উনি মারা যাওয়ার পর অনেক মজার একটা ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড তো মডেলদেরকে প্রমোট করে ওদের বিভিন্ন ক্যাম্পেইন এর জন্যে। এখন এইখানে সাদা মডেল রাখবে নাকি কালো মডেল রাখবে? দেখা যেতো ২০২০ এর গ্রীষ্মের আগে মাত্র ১৩% মডেল থাকতো যাদের গায়ের রং কালো। আর জুন ২০২০ এ হটাৎ করে এই সংখ্যাটা বেড়ে গেছে, দেখা গেছে ২৫% মানুষ এখন কালো। তার কারণ ছিলো ওইসময় জর্জ ফ্লয়েড মারা গেছিলো, মানুষ এটা নিয়ে ট্রেন্ড করতেছিলো এবং এই কারণে ব্র্যান্ডগুলোও কালো মডেলদের প্রমোট করা শুরু করছে। কিন্তু ঠিকই সেই জুলাই ২০২০ এ আবার সংখ্যাটা কমে মাত্র ২০% এ আইসা দাড়াইসে। আগস্টে তো আরো ৪% কমে ১৬% হয়ে গেছে। তো ব্র্যান্ড রা প্রমোশন এর জন্যে যেকোনো কিছু করতে পারে। এখন এগুলোর বিরুদ্ধে তো অনেক আন্দোলন হইসে। একটা আন্দোলন আমি বলি, এটা মেক্সিকোতে Indigonism Movement। ওইখানে একজন আইকন ছিলো ফ্রিদা কাহলো। উনি এই White beauty standard কে রিজেক্ট করার জন্যে বিভিন্ন প্রি-কলম্বিয়ান পোশাক পড়তেন, হেয়ার স্টাইল ইউনিক রাখতেন, উনার ফেসিয়াল হেয়ার দেখা যেতো একজন মেয়ে হয়েও। আইভ্রু এর মাঝখানে ভিজিবল চুল রাখতেন, এরকম আরো অনেক কিছুই। বাংলাদেশের মানুষদের ক্ষেত্রেও দেখেন মিডিয়ার বাইরেও এটা নিয়ে যথেষ্ট টক্সিক আলোচনা হয়। বাংলাদেশের মানুষদের মনে একটা ডুয়ালিটি থাকে। একদিকে আমরা Colorism এর বিরোধিতা করতেছি এবং অপরদিকে বিয়ে করতে গেলে ফর্সা মেয়ে আমরা খুঁজি। এটাকে বলা হয় Duality of mind বা মনের দ্বৈততা। একইসাথে আপনি দুই ধরনের জিনিস চাইতেছেন। এটাকে Jekyll and Hide কেস ও বলা হয়। এটা স্কটিশ অথর রবার্ট লুইস স্টিভেনসন এর একটা ক্লাসিক নভেল। সোজা কথায় এখনো জেকিল হইতেছে খুবই ভালো একজন সায়েন্টিস্ট আর হাইড হচ্ছে খুবই খারাপ একজন মানুষ যার অল্টার ইগো আছে। জেকেল যেহেতু বিজ্ঞানী, ওর কাছে একটা পোশোন বা ঔষধ আছে যেটা খাইলে ও হাইড হয়ে যাইতে পারে। কাইন্ড অফ হ্যারি পটারের পলিজুস পোশোন এর মত যেই পোশোনের মধ্যে আপনি অন্য কোনো মানুষের চুল যদি মিশায়া দেন এবং ঐটা যদি খান, তাহলে আপনি ওই মানুষটার আকৃতি ধারণ করতে পারবেন। তো পোশোন খাওয়ার পরে জেকিল হাইড হয়ে যেতো, প্রথম প্রথম সে হাইড কে কন্ট্রোলে রাখতে পারতো। কিন্তু একটা সময় জেকিল তার কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে এবং হাইড পুরা বডির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এমনকি ওরা দুজনেই মারা যায়। এটা দিয়ে লেখক আসলে বুঝাতে চেয়েছেন একটা মানুষের দুইটা রূপ থাকে, অর্থাৎ দুটো ব্যাক্তিত্ব থাকে। ঠিক যেমনটা আমরা বাংলাদেশের মানুষদের ক্ষেত্রে দেখি যে ফর্সা হইতে হইবে কেন এটা নিয়ে বিরোধিতা করতেছে আর বিয়ের সময় ফর্সা বউ খুঁজতে! কাজী আশরাফ হোসেন, একজন ঘটক। আমি জানি আপনারা নামটা শুনে পরিচিত হননি। ইনি হইতেছেন ঘটক পাখি ভাই, নামটা মনে রাইখেন, যেকোনো সময় কোনো পরীক্ষায় আসতে পারে, বলা যায় না। উনিও স্বীকার করেছেন বিয়ের বাজারের মধ্যে ফর্সা বউয়ের একটা আলাদা চাহিদা আছে। যদিও সব মেয়েদের কিন্তু ম্যাচ মেকিং সম্ভব। একটা স্টাডির মধ্যে একজন পার্টিসিপেন্ট ধুমায়া স্বীকার করছে যে সে তার মা কে কনভেন্স করতে চেয়েছিলো মিশেলি ওবামা হিলারি ক্লিনটনের চাইতে সুন্দর। কোনো ভাবেই সে পারে নাই। আমার মনে হয় রাতের বেলা হিলারি ক্লিনটনের হাসি উনার বাসার মধ্যে লাউড স্পিকারের মধ্যে বাজানো। তাইলে উনার মা সিউর কনভেন্স হয়ে যাবেন যে মিশেল ওবামা বেটার। বাংলাদেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে যদি দেখেন, ৮০/৯০ দশকের শুরু থেকে কিন্তু আমাদের যে ভিলেনরা আছেন তাদেরকে আমরা সবসময় কালো হিসেবে দেখিয়েছি, ওদের মাথার মধ্যে টাক থাকে, ওরা খারাপ মানুষ হয়। এভাবে দেখানোর কারণে আমরা টাক মানুষ দেখলেই ওদেরকে খারাপ ভাবি। কোনো কালো মানুষ দেখলেই ওদের প্রতি একটা নেতিবাচক মনোভাব আমাদের মধ্যে চলে আসে। তাই আপনি কখনো বলতে পারবেন না সোশ্যাল মিডিয়া আসার পরে এটা শুরু হইসে। সোশ্যাল মিডিয়া আসার আগেও এই জিনিসটার অস্তিত্ব ছিলো। কিন্তু এখন এটা প্রচণ্ড বাজে ভাবে দেখানো শুরু হইসে। এই Colorism ও Body Shaming এর ক্ষেত্রে আপনাকে যদি মিডিয়া এই লজিক দেয় যে ওরা শুরু Awareness বাড়ানোর জন্যে এটা করছে, মানুষ যাতে অনেক বেশি সচেতন হয় তাই ওরা নাটকের মধ্যে ছোট ছোট এরকম রসিকতা রাখছে, তাহলে এই লজিকের অ্যান্টি লজিক কি হইতে পারে! বডি শেমিং নিয়ে অভিজ্ঞ ২৫ জন জার্মান আমেরিকানের উপরে একটা সার্ভে করা হয়, ওইখানে বডি শেমিং এর অ্যাকচুয়াল সংজ্ঞাটা ওদের কাছে জিজ্ঞেস করা হয়। শেষ পর্যন্ত যে সংজ্ঞাটা দাড়াইসে যে আমি যদি আপনাকে আপনার বডির কালার নিয়ে কোনো ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করি, সেটা হতে পারে আমি আপনার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে করছি না, কিন্তু তার পরেও এটা বডি শেমিং এর আন্ডারে পরবে। আমরা কিন্তু অনেক সময় আমাদের বন্ধুদের বলে থাকি যে আমরা তোকে এটা মিন করে বলি নাই বা মজা করে বলছি, কিন্তু তারপরেও আপনার এখানে তার ক্ষতি করার ইন্টেনসন থাকাটা জরুরি না, আপনি যে একটা নেতিবাচক কমেন্ট করছেন ওর বডির কালার সম্পর্কে, এইটাই Colorism বা বডি শেমিং এর আন্ডারে পরবে। তো আপনি যদি এই লজিক দেন যে আপনি Awareness ছড়ানোর জন্যে আপনি রসিকতা গুলোকে রাখছেন, এটা কোনোদিন ধোপে টিকবে না। সবমিলিয়ে যদি সামারি করি, আজকে আমি শুরুতে আলোচনা করার চেষ্টা করছি যে এই Colorism জিনিসটা উপমহাদেশের মধ্যে আসলে কোথা থেকে আসছে এবং এর তুলনা টানতে গিয়ে আমার এশিয়ার দুটো দেশ জাপান এবং চীনের মধ্যেও এই জিনিসটা অনেক আগে থেকে বিরাজ করতো সেটার উদাহরণটা আনছি। দ্বিতীয়ত বড় বড় ব্রান্ডগুলো কেনো আসলে সাদা চামড়ার মডেলদেরকে বেশি ক্যামেরার সামনে দেখায় এবং একটা সময় যে পাবলিক Backlash এর মুখে আইসা অনেক বড় বড় ব্রান্ড তাদের অ্যাড ক্যাম্পেইন থেকে ফর্সা হওয়া জিনিসটাকে বাদ দিয়ে বাধ্য হইসে। তৃতীয়ত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে ডুয়াল মেন্টালিটি আছে যেটাকে জেকিল অ্যান্ড হাইড কেস বলতেছি, এটা কিভাবে প্রিভেইল করে! সবশেষে বডি শেমিং এর ইন্টেনশন থাকাটা যে আপনার জরুরি না, আপনি যদি কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেই ফেলেন, সেটাও যে বডি শেমিং এর ভিতরে ইনক্লুড হবে, এই ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করার ট্রাই করছি। যদিও আমি মেইনলি আজকে Colorism জিনিসটা ব্যাখ্যা করছি, শেষে জাস্ট একটা টপিক রাখছি বডি শেমিং যেটা Colorism এর সাথে সঙ্গায়নে অনেকটা মিলে। আমি বডি শেমিং নিয়ে আরেকটা আলাদাভাবে আলোচনা করবো বলে আশা করছি। মূল আলোচনা এই পর্যন্ত, মিম রিভিউ!

FuzzyCarnage: We got our new respect card:

এই রেসপেক্ট কার্ড টা মেইনলি ইবাদত হোসেনকে দেওয়া দরকার, যে বোলিং টা করছে সেকেন্ড ইনিংস এ!

Nahiyanhkhan: লুচু মানেই লুইচ্চা: হইতেই পারে, ব্যাপার না। মানুষের দুজন প্রিয়সী থাকতেই পারে।

আজকে এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ্ হাফিজ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.