কেন মানুষ চ্যাপ্টা পৃথিবীতে বিশ্বাস করে? Flat Earth Theory Debunked | Explained by Enayet Chowdhury

 মিস্টার বিস্ট তার ২০১৮ সালে করা একটা পোল এ সাবস্ক্রাইবারদের কে জিজ্ঞেস করবেন পৃথিবী কি চ্যাপ্টা? ৪৩% বলছে “হ্যা”।আমি নিজে একটা পোল করছি কিছুদিন আগে যেখানে ১৯% লোক বলছে পৃথিবী চ্যাপ্টা বা ফ্ল্যাট! ২৩ হাজার মানুষ ভোট দিসে,তার মধ্যে ১৯%,মানে ৪৩৭০ জন মানুষ এখনও বিশ্বাস করে পৃথিবী চ্যাপ্টা। মিস্টার বিস্ট এর পোল এ তখন ১ হাজার ভোট ও পড়তো না।যদিও আমি জানি আমি জীবনেও মিস্টার বিস্ট এর ধারের কাছেও পৌঁছাতে পারবো না।কিন্তু পৃথিবীতে ২০১৭ সাল থেকে ফ্ল্যাট আর্থ সমর্থনকারীদের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হয়।২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একজন র‍্যাপ গায়ক ববি রে সিমন্স জুনিয়র একটা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এর জন্যে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার এর ফান্ড তোলার ঘোষণা দেন জাস্ট এটা দেখার জন্যে যে বাইরে থেকে পৃথিবী দেখতে গোলাকার নাকি সমতল! প্রেসার নিয়েন না,পরে এই লোক কে কেও টাকা দেয়নি।তবে মানুষ কেনো চ্যাপ্টা পৃথিবীতে বিশ্বাস করে?এটা কি খুব রিসেন্ট টাইম এ শুরু হইসে নাকি এর আগে থেকেই এটার প্রচলন ছিল!এর পিছনে কি সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো হাত আছে? এই পুরো ব্যাপারটি আমি আজকে ব্যাখ্যা করবো।তো চলুন,শুরু করা যাক।


প্রথমে আমি আপনাদের সামনে ফ্ল্যাট আর্থ বিশ্বাসীদের একটা এক্সপেরিমেন্ট,যে এক্সপেরিমেন্ট এর উপর ভিত্তি করে ওরা বিশ্বাস করে পৃথিবী চ্যাপ্টা,এটা একটু প্রশ্ন আকারে ছুড়ে দেই।দেখেন,পৃথিবী যদি আসলেই গোল হয়,ওরা বলতেছে একটা প্লেন যখন সামনের দিকে যাবে তখন তো এটা সামনের দিকে ঝুঁকতে ঝুঁকতে যাবে।একদম সোজা হয়ে কিন্তু প্লেন টা যাইতে পারবে না।এটা টেস্ট করার জন্যে ওরা প্লেন এর মধ্যে একটা লেভেল নিয়ে উঠছে।যদি প্লেন টা আসলেই সামনের দিকে ঝুঁকে,তাহলে ওই লেভেল এর বুদবুদ এ একটা চেঞ্জ হবে।যদি লেভেল এর বুদবুদ টা একদম সেম জায়গাতেই থাকে,তাহলে এটা সামনের দিকে ঝুঁকেতেছে না,একদম সোজা হয়েই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাইতেছে।তার মানে প্রমাণিত হয়ে যাবে পৃথিবী চ্যাপ্টা।আসলেই দেখা গেলো প্লেন এর মধ্যে যখন একজন এক লেভেল নিয়ে উঠছে,এই লেভেল টার কোনো ধরনের চেঞ্জ হয় নাই।জনি হ্যারিস নিজেও এই এক্সপেরিমেন্ট টা করছে এবং দেও দেখছে এই লেভেল এর কোনো চেঞ্জ হয় না।এর মানে কি পৃথিবী চ্যাপ্টা? এই প্রশ্নটা আমি একদম শেষের দিকে দিবো।তবে তার আগে চলেন দেখি ফ্ল্যাট আর্থ এ যারা বিশ্বাস করে ওরা আর এক্সট্রা কোন কোন জিনিস এ বিশ্বাস করে! নম্বর ওয়ান,পৃথিবী হইতেছে একটা ডিস্ক এর মত,যে ডিস্ক এর মাঝখানে নর্থ পোল বা উত্তর মেরু আছে এবং এই ডিস্ক এর চারপাশ ঘিরে আছে এন্টার্কটিকা।দুই নাম্বার বিশ্বাস, সূর্য আর চাঁদ নাকি অনেক ছোট সাইজ এ এবং পৃথিবীর অনেক কাছে অবস্থিত।তিন নম্বর বিশ্বাস,নাসা নাকি প্রতিষ্ঠাই করা হইসে পৃথিবী যে চ্যাপ্টা,এই কথাটা সবার সামনে থেকে লুকানোর জন্যে।অন্য আরো যেসব স্পেস এজেন্সি আছ স্পেস এক্স এর মতন,ওরা সবাই এই সেম কাজ টাই করতেছে।চার নম্বর,পৃথিবীর যেসব ছবি মহাশূন্য থেকে তোলা হইসে,সবগুলো আসলে ফটোশপ করা। পাঁচ নম্বর,মানুষের চাঁদে নামার কে অভিযান টা ছিল সেটা একটা ফেক অভিযান।এইসব ভুগিচুগী বিশ্বাস ফ্ল্যাট আর্থ এ বিশ্বাসী মানুষদের অনেকেই করে থাকে।তাহলে এখন আমাদের জানা দরকার,এই চ্যাপ্টা পৃথিবীতে বিশ্বাস করার ব্যাপারটা,এটা ইতিহাসের কবে থেকে আসলে শুরু হইসে।পশ্চিমা বিশ্বের সামনে পৃথিবী যে গোল,এই কনসেপ্ট প্রাচীন গ্রিকরা আগেই প্রচার করে আসছে।যারা পিথাগোরাস এর অনুসারী ছিল,তারা এটাকে একদম ভালোভাবে মেনে নিছে।বস মানুষ এরিস্টটল খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর শেষের দিকে অনেকগুলো এম্পেরিকাল প্রুফ আনে,যেটার মাধ্যমে প্রমাণ হয় পৃথিবী আসলে গোল।সে যদিও কিছু উল্টা পাল্টা জিনিস এর জন্যে বিখ্যাত,কিন্তু এ জায়গাটাতে সে ঠিক জিনিসটাই বলছিল। এরিস্টটল যেহেতু বলে দিসে পৃথিবী গোল,তাই এটা নিয়ে অনেকেই কোনো বাক বিতন্ডা করেনি।কিন্তু ব্যাবিলনীয় রা বিশ্বাস করতো প্রথম দেখাতেই যে পৃথিবী নাকি চ্যাপ্টা।মহাদেশগুলো পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রে আছে এবং তার চারপাশ ঘিরে মহাসমুদ্র গুলো আছে।আর আকাশ হইতেছে একটা ফিজিকাল অবজেক্ট যেটা মহাসমুদ্রে পানির উপর বসিয়ে দেওয়া হইসে।এটা থেকে কিন্তু খুব ক্লিয়ারলি বুঝা যায় প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে এই ব্যাবিলনীয়ানরা ছাড়া অধিকাংশ সভ্যতাই বিশ্বাস করতো পৃথিবী আসলে গোলাকার,চ্যাপ্টা পৃথিবীতে বেশিরভাগ সভ্যতাই বিশ্বাস করতো না। দেলাওয়ার ইন্ডিয়ান যারা ছিল,ওরা একটা জিনিস এ বিশ্বাস করতো,যেটাকে বলা হয় টার্টেল থিওরি বা কচ্ছপ তত্ত্ব।ওরা বিশ্বাস করতো প্রথমে শুধু পানি আর পানি ছিল এবং এরপর সেখান থেকে দা গ্রেট টার্টেল আবির্ভূত হইসে।সৃষ্টিকর্তা সেই কচ্ছপ এর খোলোক এর উপর কাদা মাইখা দিসে,সেই কাদাটা শুকাইছে এবং সেই মাটি থেকে গাছ জন্ম নিছে।সেই গাছের একটা চারা যখন উপরে বাড়তে বাড়তে আকাশের মধ্যে স্পর্শ করছে,সেখান থেকে একজন পুরুষ এর জন্ম হইসে এবিং একটা চারা যখন নিচে নামতে নামতে গ্রাউন্ড এ স্পর্শ করছে,সেখান থেকে একজন নারীর জন্ম হইসে।তার মানে, দেলাওয়ারদের মতে,পুরা পৃথিবী একটা কচ্ছপ এর পিঠের উপর অবস্থিত।এই তো গেলো সব ঐতিহাসিক বিশ্বাস এর কথা।এখন চলেন দেখি আধুনিক বিশ্বে এই ফ্ল্যাট আর্থ থিওরির বিস্তার টা আসলে কিভাবে হইসে।১৮৩৮ সালে ইংল্যান্ড এর স্যামুয়েল রোবোথাম একটা এক্সপেরিমেন্ট করেন যেটা বেডফোর্ড লেভেল এক্সপেরিমেন্ট নামে বিখ্যাত।উনি বলেন পানির উপর দিয়ে চলতে থাকা একটা জাহাজ,যদি পৃথিবীর গোলাকার আসলেই হয়,তাহলে এক মাইল দূরে যাওয়ার পরে পৃথিবী গোল হওয়ার কারণে ওই জাহাজটিকে আপনি আর দেখতে পাবেন না। কারণ গোল মানেই হচ্ছে এরকম বাঁকা থাকবে,একপাশ থেকে আরেকপাশে গেলে জাহাজটিকে আর দেখতে পাওয়ার কথা না।আর যদি পৃথিবী আসলে ফ্ল্যাট হয়,তাহলেই কেবলমাত্র জাহাজটিকে দেখতে পাওয়ার কথা।কেমব্রিজ শাইয়ার এর ওল্ড ব্রেডফোর্ড
এ তিনি এই এক্সপেরিমেন্ট টা করেন এবং ৬ মাইল যাওয়ার পরে তিনি টেলিস্কোপ দিয়ে টেস্ট করা শুরু করেন ওই জাহাজটিকে আসলেই দেখা যায় কিনা এবং এরপরে তার লজিক আরো শক্তিশালী হয়ে পরে।তিনি এই টপিক এর উপরে আস্ত একটা বই লিখে ফেলেন যার নাম জেটেটিক অ্যাস্ট্রোনমি।স্যামুয়েল রোবোথাম এই বইটি পাবলিশ করেন দা পেরালক্স নামের ছদ্মনামে ১৮৬৫ সালে।এর উপর ভিত্তি করে জেটেটিক অ্যাস্ট্রোনমি নামে নতুন এক ধারণার জন্ম হয় যেটা অনেক মডার্ন ফ্ল্যাট আর্থ বিশ্বাসী যারা আছে,ওদের জন্যে অনেক গুরুত্বপূর্ন।তবে ওর এক্সপেরিমেন্ট এবং কাজের মূল্য সফলতা টা আসলে কি! এই লোক আসলেই ভুলেই গেসিলো এই পৃথিবীতে প্রতিফলন এবং প্রতিসরণ নামের কিছু জিনিস আছে,আর কার্ভ সারফেস এত বড় পৃথিবীর ক্ষেত্রে এই বিশাল একটা কার্ভ মাঝে মাঝে একটা সরলরেখার মতন ও দেখা যায়।স্যামুয়েল রোবোথাম হইতেছে আমার কয়েকজন সাবস্ক্রাইবার এর মতন।ওদের মাথায় ও অনেক সময় এরকম কিছু দুষ্টু দুষ্টু বুদ্ধি আসে। কোপ 26 এর ভিডিওটিতে আমি বলছিলাম পুরা পৃথিবী এখন চাইতেছে কয়লার ব্যাবহার এখন বন্ধ করে দিতে।এটা শোনার পর প্রথমেই উনার মাথায় প্রশ্ন আসে ওইসময় আপনি বার্বিকিউ বানাবেন কিভাবে।খুবই লজিকাল প্রশ্ন কিন্তু এটা নিয়ে এখন চিন্তা এখন না করাই ভালো।দ্বিতীয়ত,এখন যে আমার চেহারাটা ক্যামেরার মধ্যে অনেক পরিষ্কার দেখা যাইতেছে,এটার কারণ ভালো ক্যামেরা এবং ভালো লাইটিং না,বরং কোপ 26 এ উল্লেখ করা জলবায়ুর যে পরিবর্তন হইতেছে এবং এটার যে বিরূপ প্রভাব দেখা দিতেছে, যার ফলে বাতাস অনেক নাকি অনেক পরিষ্কার হয়ে গেছে বাংলাদেশে,এই কারণে আমার চেহারা অনেক ভালো দেখা যাইতেছে,এটা একজন দাবি করছে।দেখেন,ব্যাপারটা হচ্ছে আপনার বাতাস ক্লিয়ার হওয়ার কারণে আপনার বাসা থেকে কাঞ্চনজনজঙ্গা পর্বত দেখা যাইতে পারে,এমনকি মতিঝিল এর সেনা কল্যাণ সংস্থার ভবন দেখা যাইতে পারে,এটা আমার চেহারা পরিষ্কার দেখা যাওয়ার কারণ না।তৃতীয়ত,আমি একটা পোস্ট এ জিজ্ঞেস করছিলাম আমি ছবিটার মধ্যে কোথায় আছি সেটা বের করেন।প্রথমত দেখেন এই জায়গায় আমি আছি,আমার পিছনে আনিসুল হক স্যার আছেন।এই জিনিসটা ইন্ডিকেট করতে গিয়ে একজন এই কমেন্ট টা করছেন,”প্রথম আলুর পটুনদার বিচির নিচে”।দেখেন ব্যাপারটা কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে ঠিক আছে,কিন্তু আপনি আপনার কল্পনার দৌড় এতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত না করলেও হইতো। যাই হোক, হট স্প্রিং এর একজন বিজনেসম্যান অরল্যান্ডো ফার্গুসন,উনি ১৮৯৩ সালে একটা ম্যাপ পাবলিশ করেন যেখানে উনি দাবি করেন পৃথিবী আসলে স্থির এবং বর্গাকৃতির,যেটার সেন্টার এ আছে নর্থ পোল বা উত্তর মেরু এবং এটার চারপাশে বরফ এর দেয়াল ঘিরে আছে।ফার্গুসন এর এই ম্যাপ টা আপনারা অনেকেই হয়তো দেখে থাকবেন,এই ম্যাপ টা অনেক বিখ্যাত হইসিলো।এটা এতই বিখ্যাত ছিল যে ১৯২১ সালে এটা খবরের কাগজে পর্যন্ত আসে।এতসবকিছুর পরেও আপনার মনে একটা প্রশ্ন আসতেই পারে,যে ফ্ল্যাট আর্থ এ মানুষ আসলে বিশ্বাস করে কেন?এই বিজ্ঞান এর যুগের মধ্যে এসেও মানুষ কেনো বিশ্বাস করে!নিউইয়র্ক এর একজন সাইকোলজিস্ট রব ব্রদর্টন,উনি এটা ব্যাখ্যা করছিলেন মানুষ আসলে কনস্পেরেসিভ থিওরিতে কেনো বিশ্বাস করেন।ফ্ল্যাট আর্থ থিওরি টা তো অবশ্যই একটা কনস্পেরেসিভ থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব।যেমন আপনি যদি চানাচুর খাইতে গিয়ে আপনার হাত থেকে কিছু চানাচুর যদি টেবিল এর উপর পইরা যায়,তখন আপনি বলবেন,”আমার হাত থেকে চানাচুর পরে গেলো কেনো?”ইদানিং আমার ক্ষেত্রে যেটা হইতেছে,গ্লাসের উপর থেকে ঢাকনাটা সরাইলে কেনো যেনো গ্লাস টা নিচে পইরা যায় এবং সবসময় গ্লাসটিতে পানি থাকে।এটা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটা ভালো এলিমেন্ট হইতে পারে।তবে রব ব্রদর্টন যেটা বলছেন,আমরা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তে বেশি বিশ্বাস করি তার কারণ আমাদের ব্রেইন আসলে Cognative Bias এর মধ্যে থাকতে পছন্দ করে।যেমন একটা জিনিস হচ্ছে,যদি কোনো বড় কিছু আসলেই ঘটে থাকে,তার মানে এটার পিছনে বেশ বড় কিছুরই হাত আছে।এই Bias টাকে বলা হয় Proportionality BIAS।কিন্তু আমরা জানি আইস এজ এর মধ্যে ডিরেক্ট দেখানো হইসে কন্টিনেনটাল ড্রিফট বা মহাদেশের মধ্যে যে সঞ্চারণ টা হইসে,এটার পিছনে ওই নাক লম্বা বিলাইটা একটা পিচ নাকি উঠায় ফেলছিল নর্থ পোল থেকে,এটা থেকেই পুরা পৃথিবী আসলে ভাইঙ্গা গেসে।(সারকাজম ছিল)।এরপর আরেকটা আছে, Intentionality BIAS। আমরা ধরেই নেই যদি অদ্ভুত ধরনের কিছু আসলেই ঘইটা থাকে,এটার পিছনে অন্য কোনো মানুষ এর ইন্টেনশন কাজ করে,যেটা খুব খারাপ একটা ইন্টেনশন।যেমন মনে আছে মালয়েশিয়ার একটা ফ্লাইট গায়েব হয়ে গেছিলো না MH 370? এটা কেনো গায়েব হইসিলো সেটার পিছনে এখন পর্যন্ত ভালো কোনো ব্যাখ্যা নাই।অনেকেই কিন্তু বিশ্বাস করা শুরু করছে কেও নাকি পরিকল্পিত ভাবে এটাকে গায়েব করছে।যদিও এর পিছনে আসলে কোনো প্রমাণ নাই।মানুষ নিজের ব্রেইন থেকে ধরেই নেয় যে এই ধরনের কোনোকিছু হয়তো হইছে।এটাকে বলতেছি আমরা Intentionality BIAS।এরপর আরো গুরত্বপূর্ন জিনিস,কনস্পিরিসি থিওরি এর অনেকটা এন্টারটেইনিং বা বিনোদনমূলক হয়।আপনি একটা সত্য ঘটনা বলে দেখেন আর একটা মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বানিয়ে দেখেন,মানুষ বেশি মজা পাবে ওই স্বরযন্ত্র তত্ত্বটার মধ্যে এবং এটা বিভিন্ন ক্যাম্পেইন এর মধ্যে রিসার্চ করেও পাওয়া গেছে।পরবর্তীতে যারা এই ধরনের কনস্পিরিসি থিওরিতে বিশ্বাস করে,ওদের তিনটা সাইকোলজিকাল বেনিফিট আইডেন্টিফাই করা সম্ভব হইসে।নম্বর ওয়ান,যারা কনস্পেরেসি থিওরিতে বিশ্বাস করে,ওরা নিজেদেরকে অনেক ইউনিক বা স্পেশাল ভাবে যেটা ওদেরকে ভিতর ভিতর অনেক আনন্দ দেয়।দুই নম্বর বেনিফিট,ওরা নিজেদের সম্পর্কে অনেক বেশি অভারেস্টিমেট করে,অনেকক্ষেত্রে বলা যায় নার্সিসিজম।আপনারা জানেন নার্সিসিজম অর্থ হচ্ছে নিজেকে আয়নায় দেখে অনেক বেশি পুলকিত হওয়া যেটা অনিল কাপুর অনেক বেশি করতো।তিন নম্বর জিনিস,এটা পুরা একটা গ্রুপের ক্ষেত্রেও হইতে পারে যেটাকে কালেকটিভ নার্সিসিজম বলা হয়।যারা ফ্ল্যাট আর্থ এ বিশ্বাস করে,ওরা নিজেদের মনে যে ওদের পুরা গ্রুপ টা হচ্ছে একটা স্পেশাল গ্রুপ।ওরা অন্য গ্রুপ থেকে আলাদা এবং ওরা এটা করার কারণে নিজেদেরকে সমষ্টিগতভাবে অনেক গর্ববোধ করে।এখন এই পুরো ফ্ল্যাট আর্থ মুভমেন্ট এর পিছনে ইউটিউব এর অনেক বড় একটা রেসপনসিবিলিটি আছে,যেটা অনেক জায়গায় বলা হইসে।যেমন প্রথম প্রথম দেখা যাইতেছিল এই ফ্ল্যাট আর্থ প্রচার করে এরকম ভিডিওগুলো অডিয়েন্স কে অনেক বেশি পরিমাণে হুকড করে রাখে।আপনি যদি প্রমাণ করতে চান এই পৃথিবীটা গোল,আর যদি প্রমাণ করতে চান এই পৃথিবীটা ফ্ল্যাট,তাহলে ফ্ল্যাট আর্থ এর ভিডিওগুলোতে বেশি ভিউ আর অডিয়েন্স রিটেনশন পাবে।পরে অবশ্য ইউটিউব ওদের অ্যালগরিদম এ অনেককিছু চেঞ্জ করছে,কিন্তু একসময় এটা হইতো।ওরা ফ্ল্যাট এর ভিডিও কোথায় পায়,সেটা খুবই ইন্টারেস্টিং। ধরেন ৯/১১ এর ভিডিও দেখতেছে বা মানুষ কিভাবে চাঁদে অবতরণ করছে সেটার ভিডিও দেখতেছে,এগুলো দেখতে দেখতে রিকমেন্ডেশন এর মধ্যে হুট করে এসে পরে যে এরকম একটা ফ্ল্যাট আর্থ এর ভিডিও।দেখার পরে ওরা এইটা চিন্তা করে ওরা এই ভিডিওটাকে ডিবাংক করবে,এটার ভিতর ভুল ভাঙায় দিবে এবং এটার জন্যে ওরা রিসার্চ করা শুরু করে।এটা নিয়ে রিসার্চ করতে করতে একসময় দেখা যায় ওরা নিজেরাই ফ্ল্যাট আর্থ এর মধ্যে বিশ্বাস করা শুরু করছে। ওয়েট,আমিও কি ঠিক সেইম দিলেই আগাইতেছি না?পেরা নাই,আমার ক্ষেত্রে এরকম কিছু হবে না,আমি অ্যাস্ট্রোনমি এর লেকচার পর্যন্ত দিসি,আমার কাছে খুব ভালো তাবিজ আছে।তিন নম্বর আরেকটা ব্যাপার দেখা যায়,ফ্ল্যাট আর্থ এ যারা বিশ্বাস করে,তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই রিলেশনশিপ এ কোনো একটা ঝামেলা হইসে।ওরা জিবনে যেকোনো জায়গায় ব্যার্থ হইসে।হয় ওদের চাকরি চলে গেছে।তখন নতুন করে তাদের জীবনের একটা পারপাস খোজা ওদের জন্যে জরুরি হয়ে যায় এবং ফ্ল্যাট আর্থ এ বিশ্বাস করা ওদেরকে জীবনের নতুন একটা উদ্দেশ্য দেয়।এটার মাধ্যমে ওরা নতুন করে বেচেঁ থাকার একটা উৎসাহ পায়।এইটা আমাকে অনেকেই বলছে যে এটা ক্রিপ্টো কারেন্সি এর ক্ষেত্রেও সত্য।ক্রিপ্টো কারেন্সি নিয়ে যেরকম হাইপ উঠে,অনেক মানুষই এই ক্রিপ্টো কারেন্সির সাথে জড়িত,এটা ওদের কাছে অনেক ভালোলাগে এবং এই জিনিসটা ওদেরকে জিবনে একটা নতুন উদ্দেশ্য দেয়।একটা সময় দেখা গেছে,অনেক ছোট পোর্শন এর লোক সবসময় ই থাকবে যারা কোনোদিনই বিশ্বাস করবে না যে এই পৃথিবী আসল গোল,আপনি যতই প্রমাণ দেন না কেন।যেমন নীল দিগ্রেস্টাইসন, বস মানুষ,উনি একবার দেখাইতেছিলেন যে পৃথিবী কার্ভ,এত বড় কার্ভ এর মধ্যে আপনি যদি দাড়ান,তাহলে আপনি বুঝতেই পারবেন না যে পৃথিবী কার্ভ।এটা আপনার কাছে অনেকটা সরলরেখার মতোই মনে হবে।তার মানে এই না যে এই জিনিসটা আসলেই সরলরেখা।এটা আসলে একটা কার্ভ বা বক্ররেখা।তো ওইসময় ওর বিরুদ্ধে অনেক ফ্ল্যাট আর্থ বিশ্বাসীরা এটা বলা শুরু করছে যে ও আসলে ভুল কথা প্রচার করতেছে।ওরা এটা বিশ্বাস করে নাই এবং ওরে মিথ্যুক বলা শুরু করছে। যেটাই হোক,বাদ দেন।আপনাদেরকে শুরুতে যে একটা প্রব্লেম বলছিলাম,ওইটার সমাধানটা আপনাদেরকে দেই।ব্যাপারটা ছিলো,প্লেন যখন সামনে যাইতে নেয় তখন প্লেন কেন বাঁকা হয়ে যায়না,কেন একেবারে সোজা হয়ে থাকতে পারে।ব্যাপারটা খুবই সহজ,পৃথিবীর কেন্দ্রমুখী এবং কেন্দ্রবিমুখী বল বলে একটা জিনিস আছে।প্লেন যখন পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে,তখন পৃথিবীর নিজের আকর্ষণের কারণে প্লেন অটোমেটিক ভাবে বাকাতে থাকে,ওরে নিজে ইচ্ছা করে বাকার দরকার হয়না।তার কারণে আপনি প্লেন এর মধ্যে যখনই থাকেন না কেন,পৃথিবীর অভিকর্ষ বল ই ওকে ওর আপন গতিতে নিয়ে যাবে এবং আপনি যে লেভেল টা নিয়ে উঠছেন প্লেন এর মধ্যে, ঐটায় কোনো পরিবর্তিত আপনি দেখবেন না।ঠিক একই ভাবে জাহাজ যখন পানির উপর দিয়ে চলে,তখনও কিন্তু জাহাজ বাকাতে বাকাতে পৃথিবীর পৃষ্ঠ দিয়ে যায় না।ওর উপরেও পৃথিবীর অভিকর্ষ বল কাজ করে।তবে অভিকর্ষ বল আসলে ঘুম ও চিন্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল যেটা আমরা পাই না।যেটা আমাদের জন্যে খুবই সহজ হইতো,মাথা নিচু করলেই ঘুম চলে আসতো।

এবার মিম রিভিউ!
নাহিয়ান খান: দুষ্টু এনায়েত ভাই
আব্বু আম্মু যখন বাসায় থাকেন
আব্বু আম্মু যখন বাইরে যান।
আমি মোটেও এসব করিনা বাসায়।আমার আরো অনেক কাজ আছে।কিন্তু আপনি যে এই ছবিটা শুরুতে খুঁজে পাইসেন,কই থেকে যে খুঁজে পাইসেন।এটা খুব সম্ভবত নটরডেম এর ম্যাগাজিন এর মধ্যে ছিল।এটার জন্যে ভাই আপনাকে স্যালুট জানাই।

আদিব ইশরাক: এনায়েত ভাইয়ার ভিডিও রুটিন nowadays, বুধবার,অন্যান্য দিন। এইযে আজকে বুধবার আসলো।

রিয়াদ গেমার বয় 40098
কনটেক্সট ট্রাইমনাল পডকাস্ক। হোকাগে, হোকেজ।এটা আসলে ট্রাইমনাল পডকাস্ক এর কনটেক্সট না,আমি আসলে একটা ভিডিওর মধ্যে বলছিলাম Naruto যে দৌড়ায়,সে naruto এর গ্রামে যে সরদার থাকে তাকে HOCKAGE বলা হয়।এটার আসল উচাটন হচ্ছে হোকাগে।

মেকানিকাল জেনারেল 2691: people who know vs people who don’t know। আমি শুনতেছি ইদানিং ঘুমানোর আগে নাকি বাচ্চাদের এই ছবি দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়।এবং চাঁদ ও সূর্যের সারফেস এর সাথে আমার গাল অনেকটা মিলে।এটা অনেক গর্ব করার একটা বিষয়,আমার গালের মধ্যে ইলন মাস্ক এসে মঙ্গল গ্রহের মত পরীক্ষা চালাতে পারে,কোনো ব্যাপার না।

যাই হোক আজ এই পর্যন্তই।সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।দেখা হবে ইনশা আল্লাহ্।আল্লাহ্ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.