বাংলাদেশ সরকার কি আসলেই সিগারেটের টাকায় চলে? Cigarette Business in Bangladesh | Enayet Chowdhury

আমি সিগারেট নিয়ে পোস্ট দেওয়ার পরে একজন আমাকে কমেন্টে এই কথা লিখছে ,“কিরে ভাই তুমি সিগারেট আর বিড়ির পিছে পরছো কেন? বুয়েটের মাস্টারি আর ইউটিউবিং করেও সময় কাটতেছে না? নিজে একটা প্রতিষ্ঠান দাড় করায়ে ঐ সিগারেট কোম্পানির সমান ট্যাক্স দিও সরকারকে”

মূল স্ক্রিনশট

সম্প্রতি “উ উ আন্টা ভামামা” আল্লু অর্জুন, “ব্যাড বয়” এ প্রভাস, “কেজিএফ চ্যাপ্টার ২” তে ইয়াস আর “পিকি ব্লাইন্ডারস” এ থমাস শেলবি এমনভাবে বিড়ি সিগারেট টানা শুরু করছে যে এটা দিয়ে আপনি বুঝে গেছেন যে নিচে লেখা “Smoking is injurious to health” টা দিয়ে আপাদত কোনো কাজ হচ্ছে না। আপনি বর্তমান সময়ে এটলিস্ট কোনোদিন সিগারেটের কোনো বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন না, কিন্তু তারপরেও মানুষ কেনো সিগারেট ধুমছে খায়? আর আসলেই বাংলাদেশের সরকার বিড়ি সিগারেট এর টাকা দিয়ে চলে কিনা? এই পুরো ব্যাপারটি আমি আজকে আলোচনা করবো, তো চলুন শুক টান দেওয়া যাক। 

 

বাংলাদেশে বিড়ি আর সিগারেটের ব্যাবসাটা বুঝার জন্যে আপনাকে প্রথমে বুঝতে হবে এই ব্যাবসাটা বাংলাদেশে আসলে কারা করে? এইখানে ২ টা কোম্পানি আছে, প্রথমটি “British American Tobaccoo”। ওরা পুরা ইন্ডাস্ট্রির দিক থেকে প্রায় ৬৬.৬% ইন্ডাস্ট্রি নিজেদের দখলে রাখছে। দ্বিতীয়টা হচ্ছে আকিজ গ্রুপের আন্ডারে “Dhaka Tobacco Industries”, ওরা সিগারেট এর মার্কেটের ২০.৫% দখলে নিয়েছে। আবার ২০১৮ সালে “জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল” বা “JTI” আকিজ গ্রুপকে নিজেদের করে ফেলছে। তো এখন মেজর দুইজন প্লেয়ার হচ্ছে ব্রিটিশ আমেকিরান টোব্যাকো বা BAT এবং জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল বা JTI। এরা দুইজনই কিন্তু বিদেশি, এছাড়াও আমাদের দেশী কিছু কোম্পানি আছে। যেমন: “আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানি”,”আলফা টোব্যাকো কোম্পানি” সহ আরো অনেক।

আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৯১.৬ বিলিয়ন সিগারেট বিক্রি হইসিলো! এইটা ইনসেন রকমের বেশি! এইগুলো ছাড়াও বাংলাদেশের অনেক বড় বড় কোম্পানি শুরু হইসিলো এই বিড়ির ব্যাবসা দ্বারা! কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটা জুস তৈরির কারখানায় আগুন লাগে, ওই কারখানার মালিক ছিলো “সজীব গ্রুপ”। এই সজীব গ্রুপের ব্যাবসার শুরুটা হইসিলো লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারে আর ব্যাবসাটা ছিলো বিড়ির ব্যাবসা যার নাম আজিজ বিড়ি। এইটা ছাড়াও আপনি যদি একটু উত্তরবঙ্গের দিকে আসেন, যেমন নওগাঁ শহর, ওইখানে অনেক উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে গাঁজা মহলের অন্যতম অবদান আছে। ঐখানকার মসজিদ, মন্দির, সেতু কিংবা এই ধরনের আরও স্থাপনা নির্মাণে গাঁজা সোসাইটি অনেক অবদান রাখছে।

গাঁজা সমবায় হিমাগার

এই গাঁজা সোসাইটির জন্মটা কিন্তু হইসিলো নওগাঁ শহরে সেই ব্রিটিশ আমলে। তখনকার সময় ওই জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে গাঁজা চাষের প্রচলন ছিলো। সরকারও ওইখানে পৃষ্ঠপোষকতা করতো। ৭০০০ এরও বেশি চাষীরা ১০ হাজার হেক্টর জমিতে গাঁজা চাষ করতো! কিন্তু সমস্যাটা হইতেছে স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে জেনেভা কনভেশনে  বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য বিরোধী একটা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ১৯৮৭ সালে আমাদের দেশে গাঁজা চাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে ওইখানে গাঁজা চাষীরা কিন্তু বেশ বিপদে পরে! পরবর্তীতে ওরা ধান, সরিষা, সবজি ইত্যাদি জিনিস চাষ করা শুরু করে। এইটা থেকে আমরা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারি “গাঁজার নৌকা পাহাড়তলী যায়” এই গানটাতে গাঁজার নৌকাকে যে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলীতে পাঠানো হইতেছে, এর চাইতে এটাকে যদি উত্তরবঙ্গের দিকে পাঠানো হইতো তাহলে সেই গানের লিরিক্স অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত হইতো। ব্যাপার না, আপাদত মেনে নিতেছি আমরা।

 

উত্তরবঙ্গে যে তামাক চাষ অনেক বেশি জনপ্রিয় সেটা আমাকে একজন কমেন্টের মধ্যে জানাইছেন।

উত্তরবঙ্গে তামাক চাষ

রংপুরের মত জায়গায় আজকে থেকে ২০/৩০ বছর আগেও মানুষজন তাদের বাড়ি-ঘর, ভিটা মাটি, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি সব বিক্রি করে দিয়ে ওরা “বিড়ির নাম্বার” কিনতো। “বিড়ির নাম্বার” মানে হইতেছে এটা এক ধরনের দলীল যেটা আপনাকে নির্ধারণ করায় দিবে “কে ফ্যাক্টরিতে কতটুক বিড়ি বানাবে?” প্রকৃতপক্ষে বিড়িটা বিড়ির মালিকের ই থাকবে, বিনিময়ে যারা এই বিড়ি বানাইতেছে বা যারা বিড়ির কারিগর, ওদেরকে একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা দেওয়া হবে। তো বুঝেন ঐটা তখনকার সময়ে কতটা লোভনীয় একটা জিনিস ছিলো যে মানুষ এত পরিমাণে ইনভেস্ট করতো!

 

আপনাদের মধ্যে অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করছেন যে “BAT” বা “ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো” কেনো বাংলাদেশে এত বেশি পরিমাণে জনপ্রিয়? দেখেন বাংলাদেশের ৪ টা কেটাগরির সিগারেট আছে, একটা হইতেসে একদম লো টায়ার এর যেখানে ১০ শলাকা বা ১০ টা সিগারেটের দাম ৩৯ টাকা। এই টায়ারের মধ্যে আছে শেখ, লাল শেখ(যেটাকে লাল শাক ডাকে অনেকেই), পাইলট, হলিউড। বাই দা ওয়ে আমি কিন্তু বিড়ি খাই না, কিন্তু রিসার্চ খুব ভালোমত করছি। দ্বিতীয়ত টায়ার টা হচ্ছে মিড টায়ার যেখানে ১০ টা সিগারেটের দাম ৬৩ টাকা। এর মধ্যে আছে ডার্বি, রয়াল, নেভি, স্টার এবং একটা পপুলার ব্র্যান্ড এলডি। এরপরে হইতেছে হাই টায়ার সিগারেট যেখানে ১০ টা সিগারেটের দাম ১০২ টাকা। এখানে আছে গোল্ডলিফ, লাকি স্ট্রাইক এর মত সিগারেটের ব্র্যান্ড। সবশেষে একদম উপরে হইতেছে প্রিমিয়াম টায়ার যেখানে ১০ টা সিগারেটের দাম ১৩৫ টাকা। এই টায়ারে আছে বেনসন কিংবা Marlboro এর মত সিগারেট। BAT এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হইতেছে ওরা এই ৪ টায়ারের মধ্যে প্রত্যেকটা টায়ারে ওদের সিগারেটের ব্র্যান্ড রাখছে।

আপনি এখন যেই ব্র্যান্ডগুলো দেখতেছেন সেগুলো একটু খেয়াল করলেই দেখবেন প্রত্যেকটা টায়ারের মধ্যে কোনো না কোনো ব্র্যান্ড এই BAT এর আন্ডারে পরে। তাই ওদের ব্র্যান্ড রিকগনিশনটা সব ধরনের মানুষের কাছে আছে। এই কারণে ওরা অনেক বেশি পপুলার।

দ্বিতীয় কারণ BAT একটা First Mover’s Advantage পেয়ে গেসে। ওরা অনেক পুরাতন আমল থেকে কাজ করতেছে বাংলাদেশে। ওরা ১১০ বছর আগে “ইম্পেরিয়াল টোব্যাকো” নামে যাত্রা শুরু করে। ওরা ওদের ফার্স্ট সেল ডিপো ঢাকার আরমানিটোলায় স্থাপন করছিলো। এরপরে ১৯৪৭ সালে যখন ইন্ডিয়া পাকিস্তান ভাগ হয়ে যায়, তখন “পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি” স্থাপন করা হয়। ওদের প্রথম ফ্যাক্টরি চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের মধ্যে ওরা স্থাপন করছিলো। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান টোব্যাকো এর দ্বিতীয় ফ্যাক্টরি ওরা স্থাপন করে ঢাকার মহাখালীতে। বাংলাদেশে যখন স্বাধীনতা পায়, তখন এটার নাম হয়ে যায় বাংলাদেশ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড। কিন্তু ১৯৯৮ সালে এই কোম্পানিটা তাদের ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি চেঞ্জ করে নাম হয় “ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ” বা “BAT B” বা “BAT বাংলাদেশ”।

 

তৃতীয় কারণ, নিয়মিত সিগারেট খায় এমন যেকোনো মানুষের সাথে আপনি যদি কথা বলেন, ওরা আপনাকে বলবে যে ওরা প্রথম যে সিগারেটটা ধরছিলো, ওই ব্র্যান্ড এর সিগারেট ছাড়া অন্য কোনো ব্র্যান্ড এর সিগারেট খাইতে তারা সেরকম শান্তি পায়না। BAT বাংলাদেশ যেহেতু বাংলাদেশে অনেক আগে থেকে ডিল করে, তাই বেশিরভাগ মানুষ যখন নতুন সিগারেট ধরছে, ওরা BAT এরই সিগারেট ধরছে এবং ঐটা এখন ওরা আর চেঞ্জ করতে চায়না।

 

চতুর্থ কারণ , এটার ব্যাপারে একদম শক্ত কোনো রেফারেন্স নাই, কিন্তু বলা হয়ে থাকে BAT এর যে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সেটা অনেক বেশি স্ট্রং, অর্থাৎ খুব সহজেই ওদের প্রোডাক্টগুলো ছড়িয়ে যেতে পারতেছে। এমনকি বলা হয় গ্রামীনফোন ও উইনিলভার এর চেয়ে ওদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক অনেক বেশি পরিমাণে শক্তিশালী। গ্রামে গঞ্জে গেলে আপনি BAT এর যেকোনো একটা ব্র্যান্ড এ সিগারেট হয়তো পাইতে পারেন, কিন্তু JTI বা জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল এর সিগারেট আপনি কিন্তু গ্রামে গঞ্জে গেলে হয়তো পাবেন না, সেটা শুধুমাত্র শহরের মধ্যেই এভেইলেবল। তো যিনি বেনসন খান, উনি ঢাকায় থাকলে যে সার্ভিস টা পাইতেছেন, একটা গ্রামে গঞ্জের টং এর মধ্যেও উনি ঠিক সেই সার্ভিস টাই পাইতেছেন। ওইখানে গেলেও উনি বেনসন পাইতেছেন। এইটা BAT এর জনপ্রিয়তার অন্যতম একটি কারণ।

 

সম্প্রতি ডেইলি স্টার এ একটা প্রতিবেদন ছাপানো হয় যেখানে বলা হয় JTI বা জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল, BAT বাংলাদেশ এর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ আনছে যেটাকে বলা হয় “Anti-Competitive Practice”। সোজা কথায় বললে, ওরা অভিযোগটা করতেছে BAT নাকি সিগারেট বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে বলে যে তুমি যদি আমাদের প্রোডাক্ট ছাড়া অন্য কোনো ব্র্যান্ড এ প্রোডাক্ট তোমার দোকানে রাখো, তাহলে আমরা আমাদের প্রোডাক্ট তোমার কাছে দিবো না। এখন যে সিগারেট বিক্রি করে, সে তো BAT এর জনপ্রিয় সিগারেট গুলো ছাড়া ব্যাবসা করতে পারবে না। তো এভাবে অন্য ব্র্যান্ড এর সিগারেট না বিক্রি করতে দেওয়ালে Anti-Competitive Practice এর মধ্যে আনা হইসে। JTI এইটার বিরুদ্ধেই কমপ্লেইন করছে।

 

এখন প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশের কর এর মধ্যে সিগারেট কোম্পানিগুলোর অবদান আসলে কতটুক? এটা আসলেই সত্যি কথা যে বাংলাদেশের ইন্টারনাল যে রেভিনিউ টা আসে, ওইখানে ১৩% থেকে ১৪% আয় আসে এই তামাক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে। এমনকি BAT নিজেই প্রায় ১০% এর মত কন্ট্রিবিউট করে। ধরেন একটা সিঙ্গেল সিগারেট শলাকার দাম যদি হয় ১৩.৫ টাকা, আপনি যদি ১৫% ভ্যাট ধরেন আর ৬৬% সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ধরেন, তাহলে হয় ১০.৮ টাকা। এই টাকাটা কিন্তু সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের কাছে পৌঁছায়। এছাড়াও সিগারেটের tax এর একটা স্পেশাল নিয়ম আছে। সিগারেটের tax কাটা হয় যখন সিগারেটটা কেও কিনবে, তখন না। যখন সিগারেটটা ফ্যাক্টরি থেকে বের হইতেছে, ঠিক ওই সময়েই সিগারেটের tax কাটা হয়ে যায়। এই পুরো জিনিসটা হাইলি মনিটর করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে BAT কিন্তু বাংলাদেশের ইনকাম ট্যাক্স বা আয়কর এবং ভ্যাট, এই দুই জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে। ভ্যাট এবং সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, এই দুই ক্ষেত্রেই এই কোম্পানি সরকারের কাছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা দিসে।

 

এখন আপনাদের কাছে মনে হইতে পারে এই কোম্পানিগুলো দেশের অর্থনীতিতে এত বেশি পরিমাণে অবদান রাখতেছে, তাহলে তো ওরা খুবই ভালো কাজ করতেছে। কিন্তু একটু ভিন্নভাবে যদি আপনারা চিন্তা করেন, এই সিগারেটের কিছু হেলথ কস্ট আছে। যেমন বাংলাদেশ কেনসার সোসাইটি তাদের একটা স্টাডির মধ্যে দেখাইসে বাংলাদেশে ২০১৮ সালে প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার মানুষ মারা গেছে শুধুমাত্র এই তামাকের কারণে যেটা পুরা দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ১৩.৫%। প্রায় ১৫ লক্ষ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ এই তামাক সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগতেছে। সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং বা আমি স্মোক করতেছি এবং পাশে একটা বাচ্চা বসে আছে, এইরকম কেস এ প্রায় ৬১০০০ এরও বেশি বাচ্চা যাদের বয়স ১৫ এর চেয়ে কম, ওরা বিভিন্ন রোগে ভূগতেছে। তো আপনি যদি বার্ষিক প্রোডাক্টিভিটি লস, এই ধরনের বিভিন্ন মৃত্যু, এই সবকিছুকে বিবেচনায় আনেন তাইলে এই টোটাল ক্ষতির পরিমাণ টা দাড়ায় বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২১.৭ বিলিয়ন বা ২২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। তো এটার টোটাল এনুয়াল ইকোনমিক কস্ট যদি আপনি চিন্তা করেন, তাহলে সেটা দাড়ায় প্রায় ৩০৫.৬ বিলিয়ন টাকা যেটা ২০১৭-১৮ তে আমাদের জিডিপি এর ১.৪%। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই টোব্যাকো কোম্পানিগুলোর যে অবদান, সেইটা যদি আপনি হিসাব করেন, তাহলে সেটা দাড়ায় ২২৯.১ বিলিয়ন টাকা। তো ওরা ক্ষতি করতেছে ৩০৫.৬ বিলিয়ন টাকা আর অবদান রাখতেছে ২২৯.১ বিলিয়ন টাকা! ওরা এখনো ৭৬.৫ বিলিয়ন টাকার একটা নেট লস কিন্তু আমাদের দেশের মধ্যে দিতেছে। তো পুরা অর্থনীতি দিয়ে যদি আপনি বিবেচনা করেন, তাহলে দেখবেন এই টোব্যাকো কোম্পানিগুলো মনে হইতে পারে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখতেছে, কিন্তু আসলে ওরা আমাদের নেট ইকোনমি বা অর্থনীতিতে একটা ক্ষতি সাধন করতেছে।

 

এখন আপনার প্রশ্ন হইতে পারে যে এতটাই যদি ক্ষতি হয় তাহলে কেনো বাংলাদেশে সিগারেটের ব্যাবসাটা বন্ধ হইতেছে না? এখানে কিছু কারণ আছে।

  • এক নম্বর কারণ বাংলাদেশে সিগারেটের দাম অনেক কম। এইখানে ২০ টা Marlboro সিগারেটের দাম মাত্র ৩০০ টাকা। যেখানে আপনি যদি অস্ট্রেলিয়াতে যান, তাহলে এটার দাম পরবে প্রায় ২১৩৩ টাকা! ইসরাইলে এটার দাম পরবে ৯৩০০ টাকা, সৌদি আরবে এটার দাম ৬৪২ টাকা! সিগারেটের কম দামের দিক থেকে বাংলাদেশ ৩৫ টা এশিয়ান দেশের মধ্যে ১৯ নম্বরে আছে। এইখানে যে যত উপরে থাকবে, তার দেশে সিগারেটের দাম তত কম।
  • দুই নম্বর কারণ, বাংলাদেশের সিগারেটের যে প্যাকেজিং টা হয়, ঐটা প্লেইন প্যাকেজিং হয়না। প্লেইন প্যাকেজিং মানে হইতেছে সিগারেটের মধ্যে কোনো রং থাকবে না, কোনো ব্র্যান্ডের সিল থাকবে না, সিম্পলভাবে ওই সিগারেটের একটা নাম লিখা থাকবে, নিচে ওয়ার্নিং দেওয়া থাকবে এবং এই পর্যন্তই শেষ। এই জিনিসটাকে বলা হয় প্লেইন প্যাকেজিং এবং এটা বিশ্বের ২১ টা দেশে ম্যান্ডেটরি করে দেওয়া হইসে। কিন্তু বাংলাদেশে সিগারেট কোম্পানিগুলো এটা দাবি করে যে যদি আমি প্লেইন প্যাকেজিং করি, তাহলে তো আমার ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি চুরি কইরা ফেলতে পারে এবং আমার ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে বিভিন্ন অবৈধ সিগারেট তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশে কিন্তু অনেক অবৈধ সিগারেট বিক্রি হয়, এই কথাটা সত্যি। এবং এই সিগারেট যদি অবৈধভাবে ব্ল্যাক মার্কেট বিক্রি হয়, তাহলে সরকার কিন্তু একটা বড় ধরনের tax হারাবে কারণ ব্ল্যাক মার্কেটে যারা বিক্রি করবে ওরা তো সরকারকে tax দিবেনা। কিন্তু এটারও সলিউশন ছিলো। আপনি যদি কোনো QR CODE ব্যাবহার করেন, কোনো ইউনিক স্টিকার ইউজ করেন যেটা দিয়ে বুঝা যাবে যে এটাই আপনার ব্র্যান্ড, তাহলে আপনি প্লেইন প্যাকেজিং করেও সিগারেটকে ব্র্যান্ডিং করতে পারবেন। এইটা কোনো সমস্যা হইতো না।
  • তিন নম্বর কারণ সিগারেটের প্যাকেট এর ৭৫% অংশে হেলথ ওয়ার্ণিং থাকা লাগে(আপনি যে বিদঘুটে ছবি দেখেন প্যাকেট এ)। কিন্তু বাংলাদেশের সিগারেটের প্যাকেটে এটা ৭৫% না, মাত্র ৫০% এর মধ্যে থাকে। ওরা কেনো এটা করে? এখানেও একই লজিক, যদি আপনি ব্র্যান্ডিং এর অংশ কমায় দেন, তাহলে ওরা লজিক দিতেছে যে ব্র্যান্ডিং ঠিকমত হয়না। যার কারণে অবৈধ সিগারেট বিক্রি বেড়ে যেতে পারে।
  • চার নম্বর পয়েন্ট, সিঙ্গেল শলাকা হিসেবে সিগারেটের বিক্রি বন্ধ করা উচিত। তার কারণ আপনি যদি শলাকা হিসেবে সিগারেট বিক্রি করেন, তাহলে আপনি কোনো হেলথ ওয়ার্নিং দিলেন না! আবার এইটা ওরা করতে নিষেধ করতেছে কারণ যারা গ্রামে গঞ্জে কিংবা বিভিন্ন জায়গায় একদম ক্ষুদ্র পরিসরে সিগারেট বিক্রি করে, ওরা তো সেটা করতে পারবে না, এত টাকা মানুষের নাই। তো সিঙ্গেল শলাকা বিক্রি না করলে ওদের বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে এবং অবৈধ সিগারেট বিক্রি বেড়ে যাবে। দুটোরই পক্ষে এবং বিপক্ষে লজিক আছে। কিন্তু এখানে যদি সঠিকভাবে রেগুলেশন এর আওতায় আনা যায়, তাহলে পুরো ব্যাপারটাকে আরো সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

 

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে সিগারেটের ব্র্যান্ডিং অনেক সময় ইতিহাসে অনেক ভালোভাবে করা হইসে। যেমন বিংশ শতাব্দীর একদম শুরুর দিকে যখন ফার্স্ট ওয়েভ ফেমিনিজম আসছিলো UNITED STATES এ, তখন নারীদের সিগারেট খাওয়া নিয়ে বিশাল একটা ক্যাম্পেইন চালানো হইসিলো। ওইটার নাম হচ্ছে “Torches of freedom”। তখন নারীদের সিগারেট খাওয়াকে পুরুষদের সমতুল্য হওয়ার একটা সিম্বল হিসেবে দেখানো হইতো। বলা হইতো যে তোমরা যদি সিগারেট খেয়ে দেখাইতে পারো, তাহলে তোমরা পুরুষদের সমান হয়ে গেছো। সাইকো এনালিস্ট AA Brill এই টার্ম টা প্রথম ইউজ করেন এবং এডওয়ার্ড বার্নিজ নারীদেরকে পাবলিকে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে অনেক বেশি উৎসাহিত করেন।

AA Brill এবং এডওয়ার্ড বার্নিজ

সিগারেট কোম্পানিগুলো তখন খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছিলো এই নারীদেরকে যদি ধূমপানে উৎসাহিত করা যায়, তাহলে একটা বিশাল মার্কেট ওরা পাবে যে মার্কেট এতদিন পর্যন্ত মিসিং ছিলো। মির্জাপুর সিরিজে যখন ওই গোলাবারুদ এর কারখানার ভিতরে পুরুষদেরকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র নারী এবং শিশুদেরকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়, তখন ওইটার মেইন কারণ এইটা ছিলো যে নারীরা যেহেতু সিগারেট খায়না, তাই ফ্যাক্টরির ভিতর আগুন লাগার সম্ভাবনা নাই। পুরুষরা যেহেতু বিড়ি সিগারেট বেশি খায় এবং ফ্যাক্টরিতে গান পাউডার বেশি থাকে, তাই ওদের দ্বারা আগুন লাগার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

তো সিগারেটের পুরো বিষয়টা একটা ভজকট লাগানোর মত জিনিস। আশা করি আমি পুরো সিগারেট এর মার্কেট নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা দিতে পারছি। তো আজকে এই পর্যন্তই, সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, দেখা হবে ইনশা আল্লাহ্।
আল্লাহ্ হাফিজ।

 

 

Research Affiliates:

Labid Rahat https://www.youtube.com/channel/UCTio…

Alif Arshad https://www.facebook.com/alif.arshad.b 

 

Bangladesh: Smoking Tobacco Market and the Impact of COVID-19 on It in the Medium Term

THE TOLL OF TOBACCO IN BANGLADESH

Quit smoking behaviours and intentions and hard-core smoking in New South Wales

VAT collection highly dependent on cigarettes

Japan Tobacco accuses BATB of anti-competitive practices

Tobacco industry lobbies Bangladesh Government Agency to champion its business during COVID-19 pandemic

BATB

UDTCL

The Control of Essential Commodities Act, 1956 (East Pakistan Act)

Bangladesh Tobacco Industry Interference Index 2019

Industries Ministry rejects tobacco ban proposal

Revenue caught in legal web

BAT Bangladesh wins Tk1,924cr tax dispute in court battle

UK Diplomats Lobbying for BAT: Bangladesh

NBR names BATB as one of the top tax payers in the country for FY- 2020-21

The cost of tobacco use is enormous in Bangladesh and it is rising

Price Rankings by Country of Cigarettes 20 Pack (Marlboro) (Markets)

An international analysis of cigarette affordability

নওগাঁ শহরজুড়ে ব্রিটিশ আমলের গাঁজা সোসাইটির হাজার কোটি টাকার সম্পদ

আজিজ বিড়ির ব্যবসা থেকে সজীব গ্রুপ

NBR’s Tk 1,924 crore claim against BATBC dismissed: DSE website

রংপুর অঞ্চলে তামাকের আগ্রাসন: বাড়ছে তামাক চাষের জমি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *