কেন ভারত শেষ মুহূর্তে বাঁধা দিলো? COP26 Explained in Bangla | Enayet Chowdhury

গত অক্টোবরের ৩১ তারিখ থেকে নভেম্বরের ১২ তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও ইতালির আয়োজনে স্কটল্যান্ডের শহর গ্লাসগো (Glasgow) তে জাতিসংঘের ২৬ তম জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনেক আশা নিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত কনফারেন্সের প্রেসিডেন্ট অলোক শর্মা (Alok Sharma) সবার সামনে sorry বলছিলেন এবং শেষের দিকে বেশ ইমোশনাল একটা Scene তৈরি হইসিলো। পরে সবাই তালি দেওয়া শুরু করে।

এর চেয়েও বড় ব্যাপার, বরিস জনসন (Boris Johnson) সম্মেলনে মাস্ক পরে আসেননি দেখে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হইসেন।

পিওর বাঙালি!

আর গ্রেটা থুনবার্গ (Greta Thunberg) কে সম্মেলনে দাওয়াত দেওয়া হয়নি, তাও সে গ্লাসগো (Glasgow) তে গেসে। আর আপনি বিনা দাওয়াতে বিয়া খাইলে শুধু বাঙালিদেরকেই দোষ দেন!

কেন এই COP26 কে সবাই তীরে এসে তরী ডুবার সাথে তুলনা করতেছে? ভারত আর চীন শেষে এমন কী করছে যেটার জন্যে এত বড় ঝামেলা লাগছে? আর বাংলাদেশের জন্যে এই সম্মেলন থেকে নেওয়ার মতো আসলে কী আছে? এই সবকিছুই আমি আজকে আপনাদের সামনে ব্যাখ্যা করবো। তো চলুন, শুরু করা যাক। 

 

প্রথমে বিসিএস এর মানুষদের জন্যে একটা গুরুত্বপূর্ন তথ্য, জাতিসংঘের যে কনভেনশন টা United Nations Framework Convention on Climate Change বা UNFCCC, এইটার এই কনফারেন্সটা কেই বলা হয় COP অর্থাৎ Conference of Parties, যার ২৬ তম আসর ছিলো এইবার। কিন্তু আপনি যদি কিউটো প্রটোকল (Kyoto Protocol) অনুযায়ী চিন্তা করেন, এটা হচ্ছে ১৬ তম অধিবেশন যেটাকে CMP 16 বলা হইতেছে। আর আপনি যদি ২০১৫ সালের প্যারিস এগ্রিমেন্ট (Paris Agreement) এর পরের থেকে চিন্তা করেন, তাহলে এটা হচ্ছে মাত্র তৃতীয় বা থার্ড অধিবেশন যেটাকে CMA 3 বলা হইতেছে। একইভাবে CMA 1 ও CMA 2 ও ছিলো। প্রশ্ন হইতেছে গ্লাসগোতে হওয়া এই ক্লাইমেট চুক্তিটা যেটাকে আমরা “গ্লাসগো ক্লাইমেট প্যাক্ট” (Glasgow Climate Pact) বলতেছি, সেটার মধ্যে এমন এক্সক্লুসিভ কী আছে যেইটার জন্যে এতো আলোচনা হইতেছে!

 

প্রথমে কাহিনীটা হইলো যে, এই সম্মেলনটা হচ্ছে প্রথম COP, যেইখানে কয়লার ব্যবহার সীমিত করার কথা খুবই গুরুত্বের সাথে বলা হইসে। এর আগের কোনো COP এর মধ্যে এত জোরালোভাবে এই কথা বলা হয়নি। “এক্সাক্টলি” শব্দটা ইউজ করা হইসে কারণ আমরা কয়লাকে ফেস আউট (Phase Out) করে দিবো অর্থাৎ কয়লার ব্যবহার বন্ধ করে দিবো। কিন্তু শেষের দিকে ভারত এবং চীন এসে একটা অবজেকশন জানাইসে যে কারণে কথাটা চেঞ্জ করে “ফেস আউট” (Phase Out) এর বদলে “ফেস ডাউন” (Phase Down) করা হয়। অর্থাৎ একদম ছাঁটাই করে না ফেলে মাত্রা কমিয়ে আনা।

তো প্রশ্ন দাড়ায় ভারত আর চীন কেন আসলে এই কয়লা ব্যাবহারের জন্য এত উদগ্রীব হয়ে আছে!

কারণ ১. দেখেন কয়লার কিছু স্পেসিফিক ইতিহাস আছে। আমরা যে আজকে এত জীবাশ্ম জ্বালানি ইউজ করি, আপনারা কি জানেন উনিশ শতকের শেষ ভাগের ঠিক আগ পর্যন্ত পৃথিবীর অর্ধেকেরও কম জ্বালানির চাহিদা পূরণ হতো এই ফসিল ফুয়েল বা জীবাশ্ম জ্বালানি দ্বারা? এমনকি চীনও এটার সাথে অভ্যস্থ হইসে খুব বেশি আগে না, ১৯৬০ সালের পর থেকে। ব্যাপারটা হইতেছে একটা নতুন এনার্জি সোর্স যখন আপনার সামনে আসে, এটার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্যে আপনার বেশ খানিকটা সময় লাগে।

যেমন আপনারা এখানে যে গ্রাফটা দেখতেছেন, এখানে পাবেন কয়লার ব্যাবহার যখন ১৮৪০ সাল থেকে শুরু হইসে, গ্লোবাল এনার্জি সাপ্লাই এর ৪০% এ পৌঁছানোর জন্যে ওদের কিন্তু ১৯০০ সাল পর্যন্ত সময় লাগছে। অর্থাৎ প্রায় ৬০ বছর পর্যন্ত সময়ই লাগছে এই কয়লাটাকে উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের কাছে সেই এনার্জি চাহিদাটা পূরণ করা পর্যন্ত। তেলের ক্ষেত্রে সেই সময়টা লাগছে ১৯১০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত। প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে সময় লাগছে ১৯৩০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। এখনকার যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস, এটা তো মাত্র শুরুই হইলো ২০১৫ সালের পর থেকে। কাজেই আপনি যদি হুট করে বলেন যে ভাই আপনি এখন কয়লা ইউজ কইরেন না, এখন নবায়নযোগ্য শক্তি ইউজ করেন, এটা কিন্তু এত তাড়াতাড়ি সম্ভব না!

কারণ ২. জীবাশ্ম জ্বালানি, স্পেশালি কয়লা দ্বারা আপনি যদি এনার্জি উৎপাদন করেন, আপনি অনেক কম জায়গায় অনেক বেশি এনার্জি উৎপাদন করতে পারবেন।

এখন যে ডেটাটা দেখতেছেন, ফসিল ফুয়েল ইউজ করলে আপনি প্রতি স্কয়ার মিটারে ৫০০-১০,০০০ ওয়াট এনার্জি উৎপাদন করতে পারবেন। যেখানে সোলার পাওয়ার ইউজ করলে ৫-২০ ওয়াট উৎপাদন করতে পারবেন, উইন্ডমিলে তো সেটা আরো কম ১-২ ওয়াট! শুধু নিউক্লিয়ার এনার্জিই হচ্ছে ৫০০-১০০০ ওয়াট এর মতো উৎপাদন করতে পারে। তো এই ফসিল ফুয়েলে, স্পেশালি এই কয়লার যে এত বড় একটা সুবিধা যে আপনি কম জায়গায় এত বেশি পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে পারতেছেন, এইটা সহজে কেও ছাড়তে চাবে না। কারণ ইন্ডিয়া এবং চীনের মত দেশগুলোতে জায়গার প্রচণ্ড সংকট আছে। আপনি যদি এখনকার এনার্জির চাহিদার তুলনাটা দেখেন…

কয়লা থেকে পৃথিবীর ৩৬% এনার্জি আসে। এই ৩৬% এনার্জি আপনি এক্সট্রা আর কোন জায়গা থেকে আনবেন? এটার ডিস্ট্রিবিউশন কিভাবে হবে, প্রোডাকশন কিভাবে হবে? এগুলো মেইনটেইন না করে আপনি হুট করে যদি হাইড্রো পাওয়ারের মধ্যে চলে যান তাহলে এটা সম্ভব না।

কারণ ৩, আরো একটা ব্যাপার হচ্ছে ইন্ডিয়া এখানে বাঁধ সাজছে হিস্টোরিকাল কারণে। ওরা বলতেছে USA, UK এতদিন পর্যন্ত এই কয়লা ইউজ করে ওরা অলরেডি ডেভেলপড হয়ে গেছে, এখন ওদের জন্যে খুব ইজি কয়লা ইউজ না করে নবায়নযোগ্য শক্তি ইউজ করা। কিন্তু ইন্ডিয়া এবং চীন, ওরা তো এখনও ডেভলপমেন্ট স্টেজে আছে। তো ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কিংবা আমেরিকার মতো বড় বড় দেশগুলা কয়লার ফায়দা নিয়ে ফেলছে কিন্তু আমাদেরকে এখনও কয়লাটা ইউজ করতে দিতে হবে কারণ আমাদেরকেও যদি আপনি একইভাবে কয়লা রিডিউস করতে বলেন বা কমাইতে বলেন যেভাবে আপনারা করতেছেন, USA ও UK করতেছে, এইটা আমাদের জন্যে ফেয়ার হয়না। ইন্ডিয়া এই লজিকে Historical Cost এর এনালাইসিসে এই অপোজিশনটা করছে এবং এটাতে ভারতের জনগন ব্যাপক খুশি। ফ্লাইং বিস্ট (Flying Beast) এইটা নিয়ে ভিডিও করছে।

Ewww!

আমার কাছে পার্সোনালি মনে হয় জিনিসটা ঠিকই আছে। কিন্তু কয়লার এই কমিটমেন্ট পূরণ করতে না পেরে ওদের প্রেসিডেন্ট অলোক শর্মা (Alok Sharma) বেশ কান্নাকাটি করছে। আমি জানিনা এত হতাশ হওয়ার কী আছে!

আমার আঙুলটা সুন্দর না? কমেন্টে জানাবে বন্ধুরা…

সাইফ হাসান (Saif Hassan) যদি এইরকম একটা ক্যাঁচ মিস করেও হতাশ না হয়ে থাকতে পারেন, এইখানে তো জাস্ট ইন্ডিয়া আর চীন বিরোধিতা করছে, এ আর এমন কী! আমি এই তিনটা কারণের রেফারেন্স দিলাম বিল গেটস (Bill Gates) এর “How to avoid a Climate Disaster” এই বইটা থেকে ।

এখানে আপনারা এনার্জি সোর্স এবং ক্লাইমেটের মধ্যে যে রিলেশনশিপটা আছে সেটা আরো ভালোমতো বুঝতে পারবেন। 

 

আমাদের কিন্তু একটা টার্গেট আছে, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং লেভেল ১.৫°C পর্যন্ত বৃদ্ধি হইতে দেওয়া, এর বেশি বৃদ্ধি হইতে না দেওয়া।

এই লক্ষ্যটা পূরণ হইতে গেলে পুরো পৃথিবীতে যে এখন ৮৫০০ টা কোল (Coal) পাওয়ারপ্লান্ট আছে, এটার ৪০% বন্ধ করে দিতে হবে যেটা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বলতেছে। বাংলাদেশও কিন্তু সামনে ১০ টা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করে দিছে যেখানে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ছিলো।

বড়লোক্স সরকার

তো, এই ব্যাপারে সবাই আসলে কনসার্নড হইতেছে।

 

COP26 এর আরো বড় একটা কনসার্ন ছিলো ১.৫°C এর যে টার্গেটটা, এটার দিকে পৃথিবী আসলে কতটুক এগিয়ে যাচ্ছে।

আপনারা উপরে যে গ্রাফটা দেখতেছেন, এখানে নীল কালারের যে দাগটা আছে সেটা দিয়ে বোঝায় আপনি যদি প্যারিস ক্লাইমেট ডিলের লক্ষ্য অনুযায়ী আগাইতে চান তাহলে কার্বন ডাই অক্সাইড এর নিঃসরণ কত গিগা টন কমাতে হবে। আর লাল কালারের যে দাগটা আছে ওইটা দিয়ে বুঝাইতেছে পৃথিবী আসলে বর্তমানে যে পথে আছে সে পথে গেলে আসলে কতটুক কমবে! আপনারা দেখতেছেন দুটোর মধ্যে ক্লিয়ার একটা ডিফারেন্স আছে এবং পৃথিবী আসলে সঠিক পথে নাই। গরমের মাত্রা বেশি বেড়ে যাওয়া নিয়ে কবি রাহাত রহমান ওরফে বাটফিক্স(ButtFiXx) বলেছেন,

“লবা” টা আসলে উল্টা করে লেখা হইসে, আপনি ঠিক করে নিলে আসল জিনিসটা বুঝতে পারবেন। আমি কিন্তু কিছু বলি নাই, এটা রাহাত ভাই বলছে!

প্যারিস এগ্রিমেন্টে কিন্তু ২০০৯ সালে কমিট করা একটা প্রতিশ্রুতি আবার দেওয়া হইসিলো যে এখন থেকে যত ধনী দেশগুলো আছে ওরা গরীব দেশগুলোকে প্রত্যেক বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার করে দিবে এই জলবায়ুর ক্ষতিটা কাটিয়ে উঠার জন্যে। তাইলে চলেন দেখি এখন পর্যন্ত প্রত্যেক বছর কত বিলিয়ন ডলার পাইসে।

২০১৩ সালে দিসিলো ৫২.২ বিলিয়ন ডলার, ২০১৭ সালে ৭১.২ বিলিয়ন, ২০১৯ এ অনেক বেশিই দিসে ৭৯.৬ বিলিয়ন এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে ২০২৩ এর মধ্যে এটা ১০০ বিলিয়নে যাবে। এটা নিয়ে সবাই আবার ডিমান্ড করছে যে কেন আপনারা ১০০ বিলিয়ন ডলার ভালোমত দিতেছেন না! এ ব্যাপারটাকে বলা হয় ক্লাইমেট ফাইন্যান্স বা জলবায়ু অর্থায়ন। এইখান থেকে প্যারিস এগ্রিমেন্টের একটা আর্টিকেল আছে, আর্টিকেল 6 বলা হয় যেটাকে, ওই অনুযায়ী প্যারিস এগ্রিমেন্ট একটা রুল বুক যেটাকে এই কনফারেন্সে এসে কমপ্লিট করা হইসে, যেটাকে এই COP এর অনেক বড় একটা অর্জন হিসেবে ধরা হইতেছে।

 

এখানে একটা কনসেপ্টের সাথে আপনাদেরকে পরিচিত করানো দরকার। সেটা হলো কার্বন মার্কেট। এই ব্যাপারটা হইতেছে যে ধরেন আমার কাছে Allowance আছে, আমি এই সময়ের মধ্যে এক গিগা টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করতে পারবো, এর বেশি আমি করতে পারবো না। আপনার কাছেও মনে করেন এক গিগা টন আছে, কিন্তু আপনি সময়ের আগেই এক গিগা টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে ফেলছেন, এখন আপনি কী করবেন! এখন আপনি এরকম বায়ার খুঁজবেন যাদের এখনো এক গিগা টন নিঃসরণ হয় নাই এবং Allowance টা আপনি তাদের কাছ থেকে কিনতে পারবেন। বলবেন বস দেখেন আপনি তো এখনও এক গিগা টন নিঃসরণ করেন নাই, আপনি আপনার তরফ থেকে ০.৫ গিগা টন আমাকে দিয়ে দেন, আমি আপনাকে টাকা দিবো এর বিনিময়ে। আমি এটা এক্সট্রা নিঃসরণ করতে পারি কারণ এটা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নাই। নাহলে আমার ইন্ডাস্ট্রি এখানে ফল করবে! আপনি এভাবে নিজের কার্বন Allowance টা অন্যের কাছে বিক্রি করার মাধ্যমে একটা প্রফিট করতে পারেন, এভাবে Overall কার্বন ডাই অক্সাইডের নিঃসরণ কিন্তু কমতে থাকবে, কারণ জিনিসটা একটা লুক্রেটিভ (Lucrative) জিনিস।

 

প্রথম প্রথম এটা সমস্যা ছিলো, সবাই এটাকে একটা গ্রীন ওয়াশিং বলতেছিলো। গ্রীন ওয়াশিং মানে হইতেছে আপনি মানুষকে এটা বলে ধোকা দেন যে দেখো আমার প্রোডাক্টটা কিন্তু ক্লাইমেট ফ্রেন্ডলি, এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি, আমি সবুজ কিছু লোগো ইউজ করতেছি, একটা সবুজ ভাইব (Vibe) আনতেছি, কিন্তু আসলে প্রোডাক্টটা এনভায়রনমেন্ট বা ক্লাইমেট ফ্রেন্ডলি না।

তাই এই কার্বন মার্কেটকে প্রথমে সবাই গ্রীন ওয়াশিং ভাবছিলো। পরে আইসা এই এমিশন এর ডাবল কাউন্টিং এর ব্যাপারটাকে Resolve করা হইসে এবং জিনিসটাকে একটা গোছানো ফর্ম দেওয়া হইসে। আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন গ্রেটা থুনবার্গ (Greta Thunberg) কিন্তু COP26 কে একটা গ্রীন ওয়াশিং ফেস্টিভাল বলছে।

এই মেয়ের কিন্তু সেই লেভেলের সাহস। এই মেয়ে ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট (Youth for Climate) এর কনফারেন্সে যেয়ে ব্লা ব্লা ব্লা যেই ডায়লগটা দিসিলো, এটা তো সেইরকমের ভাইরাল হইসে।(ক্লিপটা দেখতে এই লিংকে যান:https://youtu.be/5UI6xzqIhaA?t=548)

 

এইবার আসা যাক, বাংলাদেশ আসলে এই COP26 থেকে কী কী পাইসে! এটা নিয়ে ডক্টর আইনুন নিশাত (Dr. Ainun Nishat) স্যার সবাইকে একটু ছোট্ট করে বকা দিসেন যে, সবাই ভাবে বাংলাদেশ COP26 এর মধ্যে যাইতেছে, আমাদেরকে বুঝি কিছু একটা দিবে বা আমরা কিছু একটা পাবো। ব্যাপারটা মোটেই এরকম না। এই সম্মেলনটিতে ১৯৭টা জাতি অংশগ্রহণ করে এবং কোনো একটা ইস্যু সেই সময়ই পাশ হয় যখন সবাই মিলে এটাতে রাজি থাকে। প্রত্যেকটা দেশ তাদের আঞ্চলিক কিছু গ্রুপের হয়ে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ যেমন আছে G-77+ China গ্রুপে, যেখানে ১৩৪ টা ডেভেলপিং দেশ আছে। আমরা এর মধ্যে একটা সাব গ্রুপের মধ্যে পরি, Least Developed Country বা LDC। এইখানের হয়ে আমরা কথা বলতে পারি। কিন্তু এইটা আসলে খুব বড় কোনো জায়গা না এবং খুব বেশি এক্সপেকটেশন রাখাও আসলে উচিত না। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই COP26 এ যেয়ে চারটা ডিমান্ড রাখছেন, যেগুলো খুবই ইম্পর্টেন্ট।

১. দেশুলোকে আরো ভালো NDC দিতে হবে।Notre Dame College না ভাই! এখানে NDC মানে Nationally Determined Contributions। এইটা বলে গ্লোবাল এমিশন যে তুমি কমাতে চাইতেছো, এর জন্যে তুমি একটা জাতি হিসেবে কতটুক এমিশন কমাবা বা এ সংক্রান্ত যাবতীয় প্ল্যান তুমি আমাকে দেও। এটাকেই বলা হয় Nationally Determined Contributions বা NDC। প্রত্যেক দেশেরই এরকম একটা NDC থাকে, বাংলাদেশেরও আছে।

২. সেই ১০০ বিলিয়ন ডলারের যে চাহিদাটা ছিলো প্রত্যেক বছর দেওয়ার, সেটাকে ফুলফিল করা।

৩. যেসব কান্ট্রি এই ক্লাইমেটের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে আছে, ওদেরকে গ্রিন টেকনোলজির ব্যাপারে যথেষ্ট সহায়তা করা এবং CVF (Climate Vulnerable Forum) কান্ট্রি যেগুলো আছে, ওগুলোর ডেভলপমেন্ট চাহিদাগুলো যথাযথভাবে পূরণ করা।

৪. এই ক্লাইমেট চেঞ্জের কারণে যে লস আর ড্যামেজ হবে, এর কারণে যে ক্লাইমেট মাইগ্রেন তৈরি হবে, জলবায়ু শরণার্থী যাদের জমি হারিয়ে গেছে ওরা কিন্তু আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পরতে শুরু করবে, এটার একটা গ্লোবাল শেয়ারিং হওয়া দরকার। শুধুমাত্র যেই দেশটা ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে, ওই দেশের ঘাড়েই যেনো সব শরণার্থীর বোঝাটা যেনো না পরে যায়, এই ব্যাপারটা এনশিওর করা দরকার। বাংলাদেশের আরেকটা প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে বাংলাদেশ Global Climate Adaptation Fund বা AF এর মধ্যে নিজেদেরকে Include করতে পারছে। যেখানে প্রথমবারের মত USA, কানাডা এবং কাতার অংশগ্রহণ করতেছে এবং তারা প্রায় ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার এডিশনাল ফান্ড দিসে। যেখানে টার্গেট ছিলো মাত্র ১২০ মিলিয়ন ডলার। এখানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সবচেয়ে বড় ডোনার, ১১৬ মিলিয়ন ডলার ওরা এখানে দিসে। তাছাড়া বাংলাদেশ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের একটা মিটিগেশন প্রোগ্রামের মধ্যে Included হইসে যেটা মেইনলি দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলা নিয়ে হবে।

এগুলা ছিল বাংলাদেশের আর্থিক প্রাপ্তি।

 

বাংলাদেশের ক্ষতির দিকটা আসলে ইউনিভার্সাল, এটা COP26 এর সাথে Exclusive না।

১.বাংলাদেশ গ্লোবাল এমিশন এর মাত্র ০.৪৭% কন্ট্রিবিউট করে, কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর একটা হইতে যাইতেছে।

২. ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর Groundswell report এর মধ্যে বলা হইসে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১৯ মিলিয়ন মানুষ এই ক্লাইমেট চেঞ্জের কারণে উদ্বাস্তু হবে। এটার কোনো গ্লোবাল শেয়ারিং আদৌ হবে কিনা সেটা আমরা নিশ্চিত না।

৩. সেই ১০০ বিলিয়ন ডলারের ফান্ডটা যদি ঠিকমত না আসে, সেটার একটা ক্ষতির ভাগীদার কিন্তু বাংলাদেশও হবে।

ওভারঅল যদি সামারি করি, COP26 টা অনেক আশা নিয়ে শুরু হইসিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ফেস আউট (Phase Out) থেকে ফেস ডাউন (Phase Down) এ নামিয়ে আনার কারণে এটায় যতটা আশা ছিলো অনেককিছুই আসলে হতাশায় পরিণত হইসে। কিন্তু তারপরেও আমাদের ছোট্ট করে একটা আশা আছে যে ২০৩০ এর মধ্যে হয়তো আমরা সেই ওয়ার্মিং লেভেল ১.৫°C এ পৌঁছাতে পারবো। কিন্তু অনেকেই বলেন যে, এটা শুধুমাত্র থিউরিটিক্যালি, প্রাক্টিক্যালি এটা করতে গেলে আরো অনেক স্ট্রং এফোর্ট লাগবে, আরো অনেক দেশকে বলতে হবে যে না আমরা কার্বন এমিশন কমাবো। দেখা যাক কী হয়…

 

মিম রিভিউ!

উনিশ শো কটকটি সালের পর আবার আজকে মিম রিভিউ হইতেছে…😴

1.

এই লোক কান্নাকাটি শুরু করছে যদিও দেখে বুঝা যাইতেছে না। এসব ফিলিংস বুঝার জন্যই আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস আছে! ঠিক এই দুই সপ্তাহের মধ্যেই কাকতালীয়ভাবে ওইটা পরে গেসে!

2.

কথা ঠিক আছে গেরিলা বাহিনী আসলে এইরকমই। কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডটা পারফেক্ট হয় নাই।

আজকে এই পর্যন্তই। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।

পুরো ভিডিও দেখেন ইউটিউবে!

Research Lead: 

Labid Rahat: https://www.youtube.com/channel/UCTio…

Alif Arshad: https://www.facebook.com/alif.arshad.b

For Gaining more knowledge on this topic:-

COP26: 5 key takeaways from S&P Global Sustainable1

Five takeaways from COP26

‘I am deeply sorry’: Alok Sharma fights back tears as watered-down Cop26 deal agreed

‘The world will start witnessing benefits of COP26 from 2023’

Bangladesh’s stakes at COP26

Bangladesh scraps plans to build 10 coal-fired power plants

COP26: The climate conference that failed the South

Leave a Reply

Your email address will not be published.