বাস্তবের মানি হাইস্টগুলো আসলে কীভাবে হয় | Top 5 Real Money Heists | Explained by Enayet Chowdhury

স্পয়লার এলার্ট!

এখানে কঠিন সব স্পয়লার দেওয়া হবে!

ইতিহাসের সবচেয়ে বিরক্তিকর ক্যারেক্টার হিসেবে মানুষ ইতোমধ্যেই মানি হাইস্ট(Money Heist) এর টোকিও(Tokyo), স্ক্যাম 1992(Scam 1992) এর সুচিতা দালাল(Sucheta Dalal) কিংবা ব্রেকিং ব্যাড(Breaking Bad) এর স্কাইলার হোয়াইট(Skyler White) কে নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী ঘোষণা করছে।

কেমনে তাকায় একেকজন😐

কিন্তু এদের মধ্যে একজন আপনাদেরকে আর কখনো বিরক্ত করতে আসবে না। কী হইসে রে ভাই! তুমি এমন করতেছো কেন! আমি কি কোনো স্পয়লার দিসি? টোকিও যে লাস্ট এপিসোডে মারা গেছে এই কথা কি আমি কাওরে বলছি? যদিও টোকিও মরায় অনেকেই খুশি হইসে। আসলে স্প্যানিশ একটা সূত্র মতে, ১৯৯২ সালে ব্যাংক অফ স্পেন(Bank of Spain) এ আসলেই ০.৮ মিলিয়ন ডলারের একটা মানি হাইস্ট হইছিলো যেইখানে দুইজন ডাকাত আসছিল, একজন খুবই ভালো ড্রেস পরা বার্লিন(Berlin) এর মতো এবং আরেকজনের ড্রেস ছিল একটা জাম্প সুট যেইটা মূলত মানি হাইস্ট এর পুরা টিমের জাতীয় ইউনিফর্ম। বাই দা ওয়ে, বার্লিনকে আমার অনেক পছন্দ। এমনকি আমার নেটফ্লিক্স এর প্রোফাইল পিকচারেও বার্লিন এর ছবি দেওয়া আছে।

Berlin💓
Bad Boys

পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত ফিজিকালভাবে এবং ডিজিটালভাবে কোন কোন বড় বড় হাইস্ট হইসে এবং এইটার ধরণটা কীভাবে চেঞ্জ হইসে? বাংলাদেশে ২০১৬ সালে নর্থ কোরিয়ান হ্যাকারদের করা ল্যাজারাস হাইস্ট(Lazarus Heist) কিংবা ২০১১ সালের শেয়ার মার্কেট স্ক্যাম এবং এগুলার সাথে ব্যাড বয় বিলিয়নিয়ারস (Bad Boy Billionaires: India) এর বিজয় মাল্য(Vijay Mallya), নীরব মোদি(Nirav Modi), সুব্রত রায়(Subrata Roy) কিংবা Scam 1992 এর হারশাদ মেহতার করা স্ক্যাম এর আসলেই কোনো সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় কিনা! এই পুরো ব্যাপারটি আমি আজকে আপনাদের সামনে ব্যাখ্যা করবো। তো চলুন, শুরু করা যাক!

 

প্রথমে আসা যাক, Physical Money Heist যেইটা ডাকাতরা স্বশরীরে যায়া কাগজের টাকা লুট কইরা নিয়া আসে, সেরকম মানি হাইস্ট আসলে পৃথিবীতে কতটা হইসিলো!

5. The Banco Central burglary (2005)

Stolen: 71.6 Million Dollar

এই ব্যাংক ডাকাতিটা ব্রাজিলে হইসিলো এবং একটা সময়ে এটা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি ছিল। এইটা করতে ২৫ জনের একটা গ্যাং কাজ করে, যারা ২৫৬ ফুট এর একটা টানেল বানায় ৩ মাস ধরে যেটা ব্যাংক এর ভল্ট ফ্লোর এ তাদেরকে পৌছায় দিবে। একবার ভিতরে যাওয়ার পরে ওরা ১৬০ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান রিয়াল চুরি করতে সক্ষম হইসিলো। এদের মধ্যে মাত্র ৮ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হইসে এবং মাত্র ২০ মিলিয়ন রিয়াল রিকোভার করা সম্ভব হইসে। 

4. The Securitas depot robbery (2006)

Stolen: 83 Million Dollar

ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি যেখানে ক্যাশ মানি জড়িত। প্রথমে একজন ভিতরের লোক ঐখানে যেয়ে প্রস্তুতি হিসেবে সিকিউরিটাস ডিপোর পুরা জায়গাটাকে ফিল্ম করছিলো। পরে মাস্ক পরা একজন মানুষ ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে কিডন্যাপ করে ওর ফ্যামিলিকে হোস্টেজ বানায়, ওকে গুদামে নিয়ে যায় এবং ওকে বাধ্য করে তাদেরকে গুদামের একসেস দিতে। ওরা ৮৩ মিলিয়ন ডলার চুরি করতে সক্ষম হয় এবং তাদের চেহারায় মাস্ক থাকার পরেও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হইসিলো। 

3. The Knightsbridge Security Deposit robbery (1987)

Stolen: 97 Million Dollar

Unlucky boss!

এই ক্রাইমের মাস্টারমাইন্ড ছিল Valerio Viccei যে অলরেডি ইতালিতে ৫০টা আর্ম রবারির জন্যে ওয়ান্টেড একজন ক্রিমিনাল ছিল। ও একটা ক্লাসিক স্টাইলে গেসে! ও আর ওর একজন এসিস্ট্যান্ট ব্যাংকের ভিতর ঢুকছে আর বলছে ওরা একটা সেইফ ডিপোজিট বক্স ভাড়া করবে। তো যখনই ভল্টটা খুলতে গেসে তখনই বন্দুক ধইরা কাজের কাজ সাইরা ফেলসে। ব্যাংক এর দরজায় ওরা “Closed” একটা সাইন লাগায়া দিসে এবং তারপরে যতটা পারে ততটা সেইফ ডিপোজিট বক্স খুইলা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার চুরি করছে। ও সাউথ আমেরিকায় পালায়া গেসিলো। কিন্তু পরে ওকে এরেস্ট করা হয় ও যখন ইংল্যান্ডে ফেরত আসছিলো ওর নতুন কেনা ফেরারিটা ওর নতুন ঘরে নিয়া যাইতে। বসের ভাগ্য খারাপ…😂

নেক্সট দুইটা রবারি ইরাক এ হইসে!

2. The Dar Es Salaam Bank heist (2007)

Stolen: 282 Million Dollar

এইটা কেন সংঘটিত হইসিলো সেই, সেই ধরনের কোনো ডিটেইল ইনফরমেশন এখনো পাওয়া যায় নাই। ব্যাংকটা ইরাকের রাজধানী বাগদাদ এর একটা প্রাইভেট ব্যাংক। এমনকি এটাও জানা যায়নি কেনো তাদের হাতে এত পরিমাণ আমেরিকান ডলার ক্যাশ ছিল, এতো ক্যাশ ডলার তো ব্যাংকের হাতে থাকার কথা না! চুরিটা কয়েকজন ব্যাংক গার্ড এর মাধ্যমেই হইসে। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকে এইটাও সন্দেহ করা হইতেছিলো যারা চোর বা ডাকাত, ওদের সাথে স্থানীয় পুলিশ কিংবা মিলিশিয়াদের একটা যোগসূত্র ছিল যেটা না হইলে বিভিন্ন চেক পয়েন্টে ওরা আন ডিটেক্টেড অবস্থায় কীভাবে পার পাইলো! এটা একটা বড় ধরণের সন্দেহের বিষয়। 

1. The Central Bank of Iraq robbery (2003)

Stolen: Over 920 Million Dollar

এইটাও বাগদাদে হইসিলো যেইটার অংক পৃথিবীর রবারি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মজার ব্যাপার, এটা করছিলেন ইরাকের তৎকালীন শাসনকর্তা সাদ্দাম হোসেন(Saddam Hussein) নিজেই।

🙄
Thinking is my passion.

যখন ইরাক যুদ্ধ শুরু হইসে ২০০৩ সালে, তার একদিন আগে উনি ৩টা বড় বড় ট্রাক পাঠাইছিলেন ইরাকের সেন্ট্রাল বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এবং উনি উনার ছেলে কাসেই হোসেন(Qusay Hussein) কে একটা হ্যান্ডরিটেন নোট দিয়ে যান। তো যে ডলারগুলা ছিল, সেগুলা ট্রাকের মধ্যে তুলে চইলা যাওয়া হয়। কিন্তু পরে বিভিন্ন রেইড এর মধ্যে এই ক্যাশ এর অনেকটা অংশই রিকোভার করা সম্ভব হইসিলো। 

 

এইসব হাইস্টগুলা হইসে ২০১০ সালের আগে, তখন ক্যাশ টাকা এভাবে যেয়ে যেয়ে লুট করতে হইতো।কিন্তু মানুষ ডিজিটাল হওয়ার সাথে সাথে চুরি ডাকাতিও ডিজিটাল হইসে। Welcome to the age of Digital Money Heists.

তিনটা ডিজিটাল ব্যাংক হাইস্ট হইসে সুইফট সিস্টেম(SWIFT system) কে ব্যবহার করার মাধ্যমে। এই তিনটার পিছনেই ছিল উত্তর কোরিয়ান হ্যাকাররা। SWIFT এর ফুল ফর্ম Society for Worldwide Interbank Financial Telecommunication. এটা এক প্রকারের একটা এসএমএস বা মেসেজ ইনফরমেশন সার্ভিসের মতো যেখানে ব্যাংক টু ব্যাংক সিকিউরলি ইনফরমেশন ট্রানজিট করার চেষ্টা করা হয়। এখানে কিন্তু ডিরেক্ট ক্যাশ ট্রান্সফার হয়না, শুধুমাত্র পেমেন্ট অর্ডারের মতো ইনফরমেশন কোডেড অবস্থায় এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকের মধ্যে ট্রান্সফার হয়। 

3. Union Bank of India heist (2016)

Stolen: 170 Million Dollar

কাজটা করছে উত্তর কোরিয়ান হ্যাকাররাই। এইটার অনেক টাকা আবার ফেরত আনা সম্ভব হইসে। এই টাকাটা Route করা হইসিলো নিউ ইয়র্ক, অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ানের বিভিন্ন ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের মধ্যে এবং শুরুটা হইসিলো বাংলাদেশ ব্যাংক হাইস্ট এর মতো করেই। ইমেইল এর মধ্যে একটা ম্যালওয়্যার পাঠানোর মাধ্যমে। যেইটা অনেক ইউটিউবারের একাউন্ট হ্যাক করতে বেশিরভাগ সময়ই ইউজ করা হয়। 

 

2. Malaysian Central Bank Heist (March 2018)

Stolen: 390 Million Dollar

এইখানেও সেইম কাহিনী, সুইফট সিস্টেমকে ইউজ করছে, উত্তর কোরিয়ান হ্যাকাররাই কাজটা করছে। কিন্তু পরে সুইফট অন্যান্য সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন এর সহায়তায় ওরা আবার জিনিসটা ফেরত আনতে পারছে। 

1. Bangladesh Bank Heist/Lazarus Heist (January 2015)

Target: 1 Billion Dollar

Stolen: 81 Million Dollar

জানুয়ারি ২০১৫, বাংলাদেশ ব্যাংক এর অনেকজন এম্প্লয়ীর কাছে খুবই ভদ্রভাবে একটা মেইল আসে, লোকটার নাম রাসেল আলম। মেইলের মধ্যে লেখা থাকে, “ভাই আমি আমার সিভিটা পাঠাইলাম এবং আরো কিছু ইনফরমেশন পাঠাইলাম একটা জিপ ফাইল এ, আপনারা এটা ডাউনলোড করেন।” সবসময় মনে রাখবেন যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ফালতু ইমেইল থেকে আপনাকে কিছু ডাউনলোড করতে না বলতেছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি সেইফ।তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তত একজন তো অন্তত ছিল যে ওই ম্যালওয়্যারটা ডাউনলোড করছে এবং দেখতে গেসে এই রাসেল আলম আসলে কে এবং কী ইনফরমেশন দিতে চাইতেছে।এরপর তখনই লেজারাস গ্রুপের ম্যালওয়্যারটা কিন্তু পুরা সিস্টেমের ভিতরে ঢুইকা গেল। ওদের প্রিন্টার নিয়ে একটা প্রব্লেম হইতেছিল, যেকোনো সুইফট এ ট্রানজেকশন হইলেই (এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংক এ টাকা গেলেই) ওইটার একটা হার্ড কপি প্রিন্ট করে ওই সফটওয়্যারটা সবসময়। তো হ্যাকাররা যখন ওইরকম বাটপারি ট্রানজেকশন করতেছে, এটারও হার্ড কপি যদি চইলা যায়, তাইলে কিন্তু জিনিসটা সবার মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলো।তো ওদের বাটপারি ট্রানজেকশন গুলার হার্ড কপি যদি প্রিন্ট আউট না হইতে পারে, সেই জন্য ওদের কাগজটা যখনই প্রিন্ট আউট হইতে যাইতো, ওরা ওই কাগজটাকে অনেকগুলা 0 দিয়ে ওভার রাইট কইরা দিতো যাতে ওই প্রিন্টেড পেপারটাতে কিছুই না থাকে বা একটা ব্ল্যাক পেপার প্রিন্ট আউট হয়ে বাইর হয়। যতবার ওইটা প্রিন্ট হইতে নিছে, ততবারই একই ঘটনা ঘটাইছে যেইটা ওদের অনেক বড় একটা চালাকির মুভ ছিল।

এই তো গেল সেন্ট্রাল ব্যাংক এর মধ্যে কী কী হাইস্ট হইসে। বাকি হাইস্টগুলা সব ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency) রিলেটেড বা Cryptocurrency Heist। আমরা ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়া অনেক লাফালাফি করি কিন্তু সত্যি কথা বলতে বর্তমান যুগে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে হাইস্ট করা বা ডাকাতি করা অনেক সহজ একটা কাজ। 

3. KuCoin Hack (September 2020)

Stolen: 281 Million Dollar

সুপুত্র-কুপুত্র, সুকয়েন-কুকয়েন💁‍♂️

প্রথমেই বলা দরকার, KuCoin হচ্ছে একটা ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ করার মার্কেটপ্লেস যেখানে বিটকয়েন, ইথেরিয়াম এর মতো ক্রিপ্টো কারেন্সিগুলা আপনি কিনতে পারবেন বা বিক্রি করতে পারবেন, স্টোর করতে পারবেন। যদিও পরে দাবি করা হইসে ৮৪% টাকা ওরা আবার ব্যাক করাইতে সক্ষম হইসে। কিন্তু এইটা অনেক বড় ধরনের একটা ইন্ডিকেশিন দেয় যে ক্রিপ্টোকারেন্সির মার্কেটটা সিকিউরিটির দিক থেকে কতটা স্ট্রং! 

2.  Mt Gox Heist (2014)

Stolen: 450 Million Dollar

Mt Gox ক্রিপ্টোকারেন্সির অনেক আগেকার দিনের মানুষ! ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন গায়েব কইরা দেওয়া হইসিলো। ওরা নিজেরা দেউলিয়া হয়ে গেছিলো এবং ওই সময়ে সার্কুলেশনে থাকা প্রতি ২০ টা বিটকয়েনের একটা বিটকয়েন গায়েব হয়ে গেছিলো।

কোতায়?🤷

যদিও প্রায় ২ লক্ষ বিটকয়েন রিকোভার করা সম্ভব হইছিল। কিন্তু ইনভেস্টিগেশনের পরে কারা আসলে এই কাজটা করছে সেটা unaccounted থাইকা গেছে।

1. Coincheck Crypto Heist (2018)

Stolen: 534 Million Dollar

এইটা একটা জাপানি ক্লিয়ারিং হাউজ, এইটার হ্যাকাররাও উত্তর কোরিয়া বেজড। ৫৩৪ মিলিয়ন ডলার হ্যাক করার জন্যে টার্গেট করা হইসিলো এবনং ওরা ওইটা নিতে পারছিলো। 

 

এইগুলা নিয়ে কথা বলতে আমি আসলেই খুব ভয় পাই, কোনদিন আবার আমার ভিডিও ১৫৪ বার দেইখা মানুষ ব্যাংক ডাকাতি শুরু করে! কে জানে!

😛

 

মজার ব্যাপার, ডাকাত যদি ব্যাংক থেকে চুরি করে তাহলে আপনি জানেন সে ডাকাত। কিন্তু স্যুট টাই পরা কোনো মানুষ যদি শেয়ার মার্কেট থেকে টাকা চুরি কইরা নিয়া যায়, সেইক্ষেত্রে সেইটা বোঝার মতো বুদ্ধি খুব কম সংখ্যক মানুষেরই আছে। কথা হইতেছে বাংলাদেশের ২০১১ সালের শেয়ার মার্কেট স্ক্যাম নিয়ে। এইটার সাথে আপনি হারশাদ মেহতার কাহিনীর অনেকটা মিল পাবেন।

বসের অমর উক্তি…

এখানেও স্টক মার্কেট ক্র্যাশ এর শুরুটা হইসিলো একটা Bull Run দিয়ে। একটু ব্যাপারটা বুঝায়ে রাখি। স্টক মার্কেটের ব্যাপারটা পুরাপুরি বিশ্বাসের উপরে নির্ভর করে। কোনো একটা স্টক ওর তো একটা স্বাভাবিক দাম আছে। এই স্টকটার দাম কত মনে হয়, এইটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। কোনো একটা স্টক এর দাম ম্যানিপুলেট কইরা কোনো একটা বিশেষ এনটিটি চাইলে একটা স্টকের দাম অনেক বাড়ায়া ফেলতে পারে। আর এইভাবে স্টকের প্রাইজ বাড়ায়া যাদের লাভ হয়, ওদেরকে বলা হয় Bull। বুলরা সবসময় প্রাইজকে উপরে নিয়া যাইতে চায়।আরেকটা গোষ্ঠী থাকে, Bear বা ভাল্লুক, ওরা সবসময় প্রাইজকে নিচে রাখতে চায়। ওরা শর্ট সেল করে। দুইটা টোটালি আলাদা জিনিস। বুলরা যখন একটা স্টকের প্রাইজ অনেক বেশি বাড়ায়া ফেলে, ওইরকম রানগুলাকে বলা হয় বুল রান। আবার স্টক মার্কেট যখন পুরাপুরি ভাবে ফুইলা যায়, তখন এইটাকে একটা বাবল বলে। আর বাবলটা যখন ফাটে, তখনই ওইটা স্টক মার্কেট ক্র্যাশ। এই বাবলটার শুরু হইসিলো ২০০৭ সালে, যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে তখন প্রকৃত ইনভেস্টমেন্ট এর খাতগুলাতে টাকা ঢালা অনেকটা কমতে থাকে। ফরেইন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট(Foreign Direct Investment) বা FDI কমতে থাকে। কিন্তু বাইরে থেকে প্রচুর পরিমাণে রেমিটেন্স আসতেছিল। তো ইনভেস্টরদের কাছে একটা সার্টেইন এমাউন্ট অফ টাকা আছে। কিন্তু এইটা তারা কোথায় বিনিয়োগ করবে এইজন্য একটা বিকল্প মাধ্যম খুঁজতে খুঁজতে এই স্টক মার্কেট ওদের কাছে একটা ভালো অপশন হয়ে দাঁড়ায়। সিপিডি(CPD-Centre for Policy Dialogue) এর ২০১১ এর তথ্যমতে, ২০১০ সালের ২০ ডিসেম্বর Beneficiary Owners Account, যেইটা স্টক মার্কেটে এন্ট্রি নিতে দরকার লাগে, টোটাল ৩.২১ মিলিয়নে যেয়ে দাঁড়ায়। একটা তুলনার জন্য বলি, ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসেও এই সংখ্যাটা ছিল ১.২৫ মিলিয়ন মাত্র সেইটা ডিসেম্বর ২০১০ এ গিয়া ৩.২১ মিলিয়নে চইলা গেছে! বুঝতেই পারতেছেন এই সময়টাতে স্টক মার্কেটে ইনভেস্টমেন্ট মানুষের কাছে কতটা আকর্ষণীয় হয়া গেছিলো। এইসব নতুন ইনভেস্টররা কিন্তু শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে খুব বেশি একটা জানেনা, ওদের কাছে টাকা আছে তাই ওরা আইসা পরছে মার্কেটে। ব্যাংক এবং অন্যান্য ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের মধ্যেও একই জিনিস, অনেক লিকুইড মানি ওদের কাছে পইরা আছে/ক্যাশ পইরা আছে। এগুলা থেকে ওরা কোনো ইন্টারেস্ট পাইতেছে না। এইসব মানি ওরা লোন দেওয়া শুরু করে। আর মানুষের বুদ্ধিও খুব ভালো, এই লোন নেওয়া টাকাগুলা ওরা ইনভেস্ট করছে শেয়ার মার্কেটে। ওইসময় ২০১০ সালে প্রায় ২০০০ থেকে ৩০০০ কোটি টাকা প্রত্যেকদিন লেনদেন হইতো যেইটা ২০০৯ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তো এইগুলা দেখাশোনার দায়িত্ব কার? বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা BSEC(Bangladesh Securities and Exchange Commision)। ওরা মার্কেট কন্ডিশনটা ঠিকমতো মনিটর করতে পারে নাই। যেই কারণে অনেক Z কেটাগরির কোম্পানি যাদের প্রকৃতপক্ষে স্টকের মূল্য অনেক কম হওয়ার কথা, কিন্তু ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে ওদের দামটাকে বাড়ায়া ফেলা হইসে এবং এইটা শেয়ার মার্কেট এর জন্য  খুব ভালো কোনো লক্ষণ ছিল না। পরবর্তিতে যখন মার্কেট ক্র্যাশ করছে(এরকম বাবল এর পরে আসলেই ক্র্যাশ করার কথা), বেশিরভাগ মানুষ ২ টা কারণকে দায়ী করছে।

১. ব্যাংক এবং অন্যান্য ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন কেনো এতো টাকা ছাইড়া দিসে মার্কেট এর মধ্যে!

২. রেগুলেটর বা নিয়ন্ত্রক যারা ছিলো ওদের দুর্বল মনিটরিং এর কারণেই আসলে ঘটনাটা ঘটছে। 

 

ভুল পড়ছেন। নরেন্দ্র না, নীরব…

এই ঘটনাটার সাথে আপনি নীরব মোদির যে কেস ইন্ডিয়াতে, ব্যাড বয় বিলিয়নার্স এর, ওর একটা মিল পাবেন। ওয় তো ডায়মন্ড এর ব্যবসা করতো এবং ওর কিছু শেল কোম্পানি ছিল বিভিন্ন দেশের মধ্যে, আরব আমিরাত, হংকং এইরকম জায়গাগুলাতে।ওর পলিসিটা খুবই চমৎকার ছিল। একটা উদাহরণ দেই। এক ধরনের হলুদ কালারের ডায়মন্ড আছে, এগুলাকে বলা হয় Yellow Orange Cushion Cut Diamond।

Buy me one for my mic stand.🙂

ওর একটা কোম্পানি আছে ফায়ারস্টার ডায়মন্ড ইনকর্পোরেটেড(Firestar Diamond Inc.), যেটা আমেরিকায়। এই কোম্পানিটা আগস্ট ২০১১ তে এইরকম একটা ডায়মন্ড ১.১ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করছে হংকং এর একটা কোম্পানির কাছে, ওইটার নাম ফ্যানসি ক্রিয়েশনস কোম্পানি লিমিটেড(Fancy Creations Company Ltd.)। এই কোম্পানিটাও আসলে নীরব মোদিরই একটা কোম্পানি এবং এইটা একটা শেল কোম্পানি। পরবর্তীতে এইরকম আরো কয়েকটা ট্রানজেকশন হয়। লাস্টে যেয়ে A. Jaffe নামে নীরব মোদির একটা নিউইয়র্ক বেইজড কোম্পানি, ওই সেইম ডায়মন্ডটাই আবার নীরব মোদির আরেকটা শেল কোম্পানি ওয়ার্ল্ড ডায়মন্ড ডিস্ট্রিবিউশন(আরব আমিরাতে) এর কাছে বিক্রি করে ১.২ মিলিয়ন ডলারে। এইযে নিজেদের মধ্যে চালাচালি কইরাই ডায়মন্ড এর দামটা বাড়ায়া দিলো, এটাকেই বলে ডায়মন্ড এর Price Inflation বা মূল্যস্ফীতি যেটা ওরা নিজেরা ইচ্ছা করে করছে। এতে একতো ওদের লাভ হইতো যে ডায়মন্ড এর প্রাইজটা বাড়তো, দ্বিতীয় লাভ এই ট্রানজেকশন এর স্লিপগুলা আছে, এগুলা দেখায়া এক ব্যাংক থেকে লোন নিতো অন্য ব্যাংকের যে ডিউ লোন আছে সেইটা পরিশোধ করার জন্য। অনেকটা হারশাদ মেহতা যেইরকম কাজ করতো। তাছাড়া কোনোরকমের collateral না দেখায়া ওরা পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক(Punjab National Bank) থেকে প্রচুর পরিমাণ টাকা নিছিলো।

 

বিজয় মাল্য, যিনি কিংফিশার এর মালিক, ওর কেসটাও অনেকটা একই ধরনের। কিংফিশার এর একটু হালকা ইতিহাস বলি, এইটা একটা বিয়ার কোম্পানি। ইন্ডিয়াতে যখন বিয়ার তখনো জনপ্রিয় হয় নাই, ওরা বিয়ারকে আইনা একটা লাইফস্টাইল হিসেবে ইন্ট্রোডিউস করাইতে চাইসে। বিভিন্ন বার খুলছে, মানুষ ওইখানে আইসা বিয়ার পান করতো।একটা সময় সরকার থেকে বলছে এই বিয়ারকে এডভার্টাইজ করা যাবে না, এইটা একটা খারাপ জিনিস কাইন্ড অফ সিগারেট এর মতো। তাই ওরা একটা বিকল্প এডভার্টাইজিং এর পথে গেছে, যেটাকে বলা হয় সারোগেট এডভার্টাইজিং(Surrogate Advertising)।কিংফিশার এখন থেকে বিয়ার কোম্পানি চালাবে কিন্তু তার সাথে সাথে ওদের আরো সাবসিডিয়ারি ইন্ডাস্ট্রি থাকবে। যেমন ওরা এয়ারলাইনস ব্যবসা শুরু করে “কিংফিশার এয়ারলাইন্স”। ওরা এইরকম আরো বিভিন্ন জায়গায় টাকা ঢালে। আপনি যখন বিয়ার কোম্পানির মাধ্যমে এডভার্টাইজিং করতে পারতেছেন না, কিন্তু সেইম এডভার্টাইজিং আপনার দরকার, আপনি অন্য কোনো একটা ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করার মাধ্যমে আপনার কোম্পানির নামটা মানুষের কাছে জানাইতে পারতেছেন, এই এডভার্টাইজিংকে বলা হয় সারোগেট এডভার্টাইজিং(অনেকটা সারোগেট মাদার এর মতো)। এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্যে বিজয় মাল্য প্রচুর পরিমাণে উল্টা পাল্টা লোন নিসে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন নিসে, যেমন স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া(State Bank of India) থেকে উনি ১৬০০ কোটি রুপি নিসে, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক(Punjab National bank) থেকে নিসে ৮০০ কোটি রুপি, ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া(Bank of India) থেকে নিসে ৬৫০ কোটি রুপি। এইভাবে অন্যান্য ব্যাংক থেকে তো আরো টাকা নিসেই।

 

এইটার সাথে আপনি মিল পাবেন বাংলাদেশে যারা ঋণ খেলাপি আছে তাদের সাথে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কিন্তু বলছেন, বাংলাদেশে ঋণ খেলাপি মানে যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়া ফেরত দিতেছে না, এইরকম ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ৩ লক্ষেরও বেশি!

২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৯৬, ৯৮৬ কোটি টাকা এই ঋণ খেলাপি এর আওতার মধ্যে পরতো। ব্যাপারটা হচ্ছে, আপনি যদি ৫০০০ টাকা ঋণ নেন, তাইলে এইটা পরিশোধ করা আপনার মাথা ব্যথা। কিন্ত আপনি যদি ব্যাংক এর কাছ থেকে ৫০০০ কোটি টাকা ঋণ নেন, তাহলে সেটা আপনার কাছ থেকে আদায় করা আসলে তখন ব্যাংকের মাথাব্যথা। কারণ আপনি যদি দেউলিয়া হয়া যান, তাইলে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা কিন্তু আপনার না হয়ে ব্যাংক এরই হইতেছে!আপনাকে আমি জেল দিবো, কোনো সমস্যা নাই। সবসময় বলে না যে সমাজের নিচু শ্রেণীর মানুষরা আসলে দেশটাকে চালাইতেছে। কথাটা কিন্তু সত্য!আর উঁচু শ্রেণীর মানুষরা এইভাবে টাকা পয়সা নিয়া নিয়া দেশের বারোটা বাজাইতেছে। 

 

তো আজকে এই পর্যন্তই। আজকের কথাগুলা ব্যাখ্যামূলক ছিল না, কাইন্ড অফ ইনফরমেশন সাপ্লাই এর মতো ছিল। কারণ এইসব জিনিস আসলে কতটা ব্যাখ্যা দেওয়া যায় আমি জানি না। পুরা মানি হাইস্ট রিলেটেড ঘটনাগুলাকে এক জায়গায় আনার একটা প্রয়াস ছিল এই লেখাটা আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগছে। আপনারা ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে খুব শীঘ্রই আবার।

আল্লাহ্ হাফেজ।

পুরা ভিডিও দেখেন ইউটিউবে!

Research Lead: Enayet Chowdhury

Research Affiliates:

Labid Rahat: https://www.youtube.com/channel/UCTio…

Alif Arshad: https://www.facebook.com/alif.arshad.b

For Gaining more knowledge on this topic:-

When North Korean hackers almost pulled off a billion-dollar heist from Bangladesh Bank

The Lazarus heist: How North Korea almost pulled off a billion-dollar hack

North Korean Regime-Backed Programmer Charged With Conspiracy to Conduct Multiple Cyber Attacks and Intrusions

How the SWIFT System Works

A SIMPLE EXPLANATION OF HOW MONEY MOVES AROUND THE BANKING SYSTEM

How Bangladesh Bank was hacked

Billion dollar hack podcast

CID fails to present probe report on Bangladesh Bank heist today, next date Jan 13

Five years into reserve heist: Money recovery efforts too slow

Bangladesh panel finds insiders negligent in central bank heist

Bangladesh central bank team in Manila to retrieve cyber heist funds

Legal battle begins

Farashuddin wants further probe

Destiny zero

Finance Minister: Number of loan defaulters over 300,000 in Bangladesh

Govt moves to rein in willful defaulters

Nonperforming loans of commercial banks in Bangladesh

Big scammers top defaulters’ list

Biggest bank robberies of all time

• The Soft Threat: The Story of the Bangladesh Bank Reserve Heist

The Spillover Effect of the Bangladesh Bank Cyber Heist on Banks’ Cyber Risk Disclosures in Bangladesh

Here are the biggest digital heists of the last decade

Has the Bank of Spain ever been robbed?

Dos atracadores huyen con 100 millones de un banco en pleno centro de Valencia

How Union Bank was hacked and got its money back

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *