যে কারণে ইউক্রেনে ঢুকলো রাশিয়ার সেনারা ft @Labid Rahat | Russia-Ukraine Crisis | Enayet Chowdhury

গত কিছুদিন যাবৎ রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল হইতেছে। আর এইটাকে কেন্দ্র করে রাশিয়া তার পুরাতন সতীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও ব্যাপক ক্যাচাল লাগাইসে। NATO এর মিত্ররা এটাও ধারণা করতেছে যে রাশিয়া ইউক্রেনে সৈন্য পাঠিয়ে একদম সরাসরি যুদ্ধ শুরু করে দিতে পারে যেটা আসলেই একটা ভয়ের কারণ। কিন্তু কেন? কেন? কেন?

কেন এদের মধ্যে কয়েকদিন পরপরই ঝামেলা বাঁধে?  অলরেডি ওরা ২০১৪ তে Crimea নিয়ে ঝামেলা করছে! এই ঝামেলগুলোর পিছনের কারণগুলো আসলে কি কি? রাশিয়া যদি ইউক্রেন দখল কইরা ফেলে, তাহলে ইউক্রেনের কি কি সুবিধা বা অসুবিধা হইতে পারে? এই পুরো ঘটনাটা নিয়েই আমি আজকে আলোচনা করবো!

মূলত আমরা আজকে এই দুটি দেশেরই নিজস্ব পার্সপেক্টিভ থেকে এই বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। তো চলুন, শুরু করা যাক।

 

প্রথমে চলেন, এখন পর্যন্ত আসলে কি কি ঘটনা ঘটছে, ওগুলোর উপরে আপনাদের একটু ধারনা দেই।

ইউক্রেন কিন্তু আগে বড় রাশিয়া, যেটাকে আমরা সোভিয়েত ইউনিয়ন বলতেছি, ওইটার অংশ ছিলো এবং নিজেরা স্বাধীনতা পাইসে ১৯৯১ সালে যখন USSR ভাঙছিলো। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন Viktor Yanukovych। উনি একটু রাশিয়া পন্থী ছিলেন, রাশিয়াকে উনি বেশি ফেভার করতেন।

Viktor Yanukovych

২০১৪ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে ইউক্রেনের একটা মিত্রতা হওয়ার সুযোগ আসছিলো যেটা এই রাশিয়া পন্থী প্রেসিডেন্ট রিজেক্ট করে দিসিলেন। এটা নিয়ে ইউক্রেনে বিশাল প্রটেস্ট হইসে এবং এই কারণে ওরা এই প্রেসিডেন্টকে শাসন ক্ষমতা থেকে নামিয়ে ফেলছে। এরপর রাশিয়া Crimea কে নিজেদের অংশ করে ফেলছে যেটা আগে ইউক্রেনের অংশ ছিলো। ইউক্রেনের পূর্বদিকে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আছে যারা ইউক্রেনের শান্তি শৃংখলা এবং সার্বভৌমত্বকে নষ্ট করে দিতে চায়, ঐসকল বিদ্রোহী পার্টি গিয়ে রাশিয়াকে সাপোর্ট দিসে।এখন ইউক্রেন আর পশ্চিমের যে দেশুগুলো আছে যেমন USA এবং ওর NATO এর মিত্ররা, ওরা মিলে রাশিয়াকে দোষ দেওয়া শুরু করছে যে রাশিয়া ওদের সৈন্যবাহিনী ইউক্রেনের মধ্যে পাঠিয়েছিলো এই বিদ্রোহীদের সহায়তা করার জন্যে। রাশিয়া অস্বীকার করে বলে যে ওরা এরকম কোনো সৈন্য পাঠায় নাই, ওইখানে যারা বিদ্রোহীদের সাহায্য করছে ওরা সবাই ভলেন্টিয়ার, অর্থাৎ সেচ্ছায় ওরা ওদেরকে সাহায্য করছে। এখন রাশিয়া আবার USA ও NATO কে উল্টা দোষ দিতেছে যে ওরা ইউক্রেনকে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করছে কেনো এবং ওদের সাথে মিলে একসাথে কেনো সামরিক মহড়া আয়োজন করতেছে? তাহলে এটা তো সেম অভিযোগ হলো যেটা ওরা রাশিয়াকে করছিলো! তার উপর সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ইউক্রেন এখন NATO এর একজন মেম্বার হিসেবে জয়েন করার কথা ভাবতেছে, এটা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin কে অনেক চিন্তায় ফালায় দিসে! তাছাড়া অনেক NATO মেম্বার বলতেছে যে ওরা ইউক্রেনের মধ্যে সামরিক ট্রেইনিং সেন্টার বসাবে। পুতিন বলতেছে যে এখানে তোমরা সামরিক সেন্টার বসানোর নামে মিলিটারি ক্ষমতা কায়েম করার চেষ্টা করতেছো যাতে রাশিয়া থেকে কোনো অ্যাটাক হইলে তোমরা এটাকে প্রতিরোধ করতে পারো কিংবা রাশিয়াকে অ্যাটাক করতে পারো। ইউক্রেন NATO তে জয়েন না দিতে পারলেও ওরা এই জায়গাতে শক্তি কায়েম করে ফেলতেছে!

 

এখন প্রশ্ন হইলো এই রাশিয়া-ইউক্রেন ঝামেলাটার শুরু হইসিলো একদম কবে থেকে এবং কেনো?

তো চলুন ম্যাপের মাধ্যমে এই অঞ্চল সম্পর্কে আপনাদের একটা ধারণা দেওয়া যাক। এখানে ইতিহাস বলতে গেলে একদম কয়েক হাজার বছর আগে ফিরে যাওয়া লাগবে। কিন্তু এখানে মূল আলোচ্য বিষয় যেহেতু রাশিয়া ও ইউক্রেন, তাই তাদের মাঝে সম্পর্কটা শুরু যে বছর থেকে হয়েছিলো, সেখান থেকেই শুরু করি। সালটা ১৭৯৩, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন ইউক্রেনকে মাঝখান দিয়ে প্রায় দু ভাগে ভাগ করে দিয়েছে Dnieper River।

 

সেই ১৭৯৩ সালে Empress Catherine the Great ইউক্রেনের এই পূর্ব দিকের অংশটা রাশিয়ান এম্পায়ার হয়ে জয় করে নেন এবং ধীরে ধীরে এখনকার পুরো ইউক্রেনই রাশিয়ার অধীনে চলে যায়। এই সময়ের মাঝে রাশিয়ান এম্পায়ারে ইউক্রেনের মানুষদেরকেও রাশিয়ান হিসেবেই দেখা হতো। এমনকি ওই সময় ইউক্রেনকে লিটল রাশিয়া নামে ডাকা হতো। এরপর থেকেই রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মানুষদের মাঝখানে নিয়মিতভাবে মাইগ্রেশন ঘটতে থাকে। এমনকি ১৮৯৭ সালে করা Census বা আদমশুমারি থেকে জানা যায় রাশিয়ান এম্পায়ারে সাইবেরিয়ান অঞ্চলে প্রায় ২ লক্ষ ২৩ হাজার ইউক্রেনীয় এবং মধ্য এশিয়ার দিকে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ইউক্রেনীয় বসবাস করছিলো! অর্থাৎ ওই সময় তাদের মাঝে সংকরায়ণ বেশ ভালোভাবেই ঘটেছিলো।

এবার ১৮৯৭ সাল থেকে ২০ বছর পর ১৯১৭ সালে চলে যাই, এ সময় রাশিয়ান রেভোলিউশনের মাধ্যমে রাশিয়াতে রাজতন্ত্রের পতন ঘটানো হয় এবং রাশিয়ান এম্পায়ার এর সমাপ্তি ঘটে। এই ১৯১৭ সালটি খেয়াল করেন, ওই সময় রাশিয়ান এম্পায়ার এর পতন ঘটা ছাড়াও ইউরোপে বেশ বড় ধরনের একটা ঘটনা ঘটছে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ! খুবই মজাদার একটা ব্যাপার হচ্ছে, এই যুদ্ধে সেন্ট্রাল পাওয়ার (Central Power) আর  ট্রিপল এন্টেন্ট (Triple Entente) নামে যে দুটি মূল পক্ষ ছিলো, সেই দুই পক্ষের হয়েই ইউক্রেনিয়রা যুদ্ধ করেছিলো। ‘Ukraine A History’ বইটি থেকে জানা যায় রাশিয়ান এম্পায়ার এর হয়ে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন বা ৩৫ লাখ ইউক্রেনীয় যুদ্ধে অংশ নেয়। অপরদিকে প্রায় ২ লাখ পঞ্চাশ হাজার ইউক্রেনীয় যুদ্ধ করেছিলো অর্স্ট্রো হাঙ্গেরিয়ান আর্মি হয়ে। এখন এই ২ ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তী ঘটনাটা কি ঘটবে সেটা হয়তো অনেকেই বুঝতে পারছেন। হ্যা, ঠিক ধরেছেন, এটা হবে Civil War বা গৃহযুদ্ধ! রাশিয়ান রাজতন্ত্রের পতনের পর অনেক ইউক্রেনিয়রা নিজেদের আলাদা রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই কারণে ১৯১৭-২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন নিজেদের আলাদা সরকার গঠন করেছিলো। এর মাঝে দুটি বড় পক্ষ ছিলো বর্তমান ইউক্রেনের রাজধানী Kyiv এ অবস্থিত ‘Ukrainian People’s Republic’ এবং হাকোভে প্রতিষ্ঠা করা ‘Ukrainian Soviet Republic’। এই পিপলস রিপাবলিক কে স্বীকৃতি দিয়েছিলো সেই সময়ের সেন্ট্রাল পাওয়ার (Central Power) এবং সোভিয়েত রিপাবলিক কে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়ান বলসেভিক (Russian Bolshevik) পার্টি যেটার লিডার তখন ছিলেন Vladimir Ilʹich Lenin। তো এই গৃহযুদ্ধে USR জয়ী হয়। তখন এই USR বা Ukrainian Soviet Republic, Russian Soviet Republic, Transcaucasian এবং Belarusian Soviet Republic একত্রিত হয়ে ১৯২২ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর USSR বা সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠন করে। এর পরবর্তী ঘটনায় এই দুই দেশের সম্পর্ক মোটামুটি নরমাল। রাশিয়া এবং ইউক্রেন একত্রিত হয়ে নতুন নতুন এলাকা জয় করে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করতে থাকে আর তাদেরই আগ্রাসনের বিপরীতে ১৯৪৯ সালে USA এবং এবং পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলো ‘North Atlantic Treaty Organization’ বা NATO গড়ে তোলে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের এই দুটি বন্ধু অঞ্চলের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতেও বেশিদিন লাগেনি। ১৯৯০ এর কিছু আগ থেকেই যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন দুর্বল হতে থাকে, সেই সময় ইউক্রেনীয়দের মাঝেও আলাদাভাবে স্বাধীন দেশ হওয়ার চিন্তা চলে আসে। সোভিয়েত ইউনিয়নে চলা বিভিন্ন দুর্নীতি এবং আরো অনেক বৈষম্য এর পিছনের কারণ হতে পারে। মাঝে কিন্তু আরো বড় একটি ঘটনা ঘটে যায়।

আপনারা জানেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে অ্যাটম বমের কথা বাদ দিলে, এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিউক্লিয়ার ডিজাস্টার ঘটে ১৯৮৬ সালের এপ্রিল মাসে চেরনোবিলে (Chernobyl)।

এই জায়গাটা কিন্তু ইউক্রেনেই অবস্থিত, অনেকেই মনে করেন এই বিপর্যয়টা ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়নের দুর্বল হয়ে যাওয়ার পিছনে একটা কারণ। আপনারা যারা এই ঘটনা নিয়ে বানানো HBO এর টিভি সিরিজ ‘Chernobyl’ দেখেছেন, তারা হয়তো বুঝতেই পারছেন এই ঘটনাটা সেসময় কেমন প্রভাব ফেলেছিলো।

তো চেরনোবিলের ঘটনার প্রায় ৪ বছর পরেই ১৯৯০ সালের ২১ শে জানুয়ারি ইউক্রেনে স্বাধীনতার জন্যে প্রায় ৩ লাখ মানুষ কিয়েভ থেকে লুভিও শহর পর্যন্ত হিউম্যান চেইন বা মানব শিকল তৈরি করে প্রতিবাদ জানায়! ১৯৯১ সালের ২৪ শে আগস্ট ইউক্রেন নিজেদের স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং সে সময় জানিয়ে দেওয়া হয় যে ইউক্রেন USSR প্রদত্ত কোনো আইন আর মেনে চলবে না। সেই বছর ডিসেম্বরের এক তারিখ একটা নির্বাচন হয় যেখানে ৯০% মানুষ ভোট দেয় স্বাধীনতার পক্ষে। ইউক্রেনের দক্ষিণে Crimea অঞ্চলে ৫৬% মানুষ ছিলো স্বাধীনতার পক্ষে, বাকি ৪৪% এর বিপক্ষে! এই Crimea এর কথা কেনো আলাদাভাবে বললাম সেটা একটু পরেই বুঝতে পারবেন। তো এই ভোট শেষ হওয়ার ২৫ দিন পর ১৯৯১ সালের ২৬ শে ডিসেম্বর ইউক্রেন, বেলারুশ এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টরা বর্তমান পোল্যান্ড এ অবস্থিত ‘Białowieża Forest’ এ একত্রিত হয়ে অফিসিয়ালি USSR বা Union of Soviet Socialist Republic এর সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং এখান থেকে ১৫ টি আলাদা দেশের জন্ম হয়। এখন আপনার মনে হতে পারে একটা দেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পর সেখানের মানুষেরা বেশ শান্তিতে দিনকাল কাটানো শুরু করবে, কিন্তু এই দুই দেশের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু আলাদা। সেগুলো নিয়ে আমি খুব বেশি কিছু বলবো না কারণ এনায়েত ভাই বলছে আমি তার চ্যানেলে এসে অতিরিক্ত বকবক করলে মানুষজন আমাকে গালি দিতে পারে! 

২০১৪ তে রাশিয়া Crimea কে দখল করছিলো, ওইসময় ইউক্রেনের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক বাজে ছিলো। রাশিয়া গিয়ে ওদের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ কে বলছে যে আমরা তোমাদের ১৫ বিলিয়ন ডলার দিবো, এটা একটা অর্থনৈতিক সহায়তা। তখন রাশিয়ার পক্ষ থেকে ওর উপর একটা প্রেসার তৈরি হয়। ওইসময় ব্রাসেলস এবং IMF বা International Monetary Fund, ওরাও ইউক্রেনের যে ব্যার্থ অর্থনীতি, ওইটাকে উঠানোর জন্যে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছিলো না। আগেই তো বলছি ইয়ানুকোভিচ চাইতেছিলো রাশিয়া যেনো আমাদের সাথে থাকে, কারণ ওরা তো ইকোনমিক এসিস্টেন্স দিতেছে। এইজন্যে ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে একত্রিত হওয়ার সুযোগকে রিজেক্ট করে দিসে। এইটার জন্যে ইউক্রেনের জনগণ সেই লেভেেপ খ্যাপা খেপছে! বিশাল সব প্রটেস্ট হইসে, অনেক মানুষ মারা গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ ইয়ানুকোভিচ পালাইয়া গেসে এবং ওর পতন ঘটছে।

এরপরে ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখ কিছু বন্দুকধারী লোক যাদের ইউনিফর্মে কোনো Insignia ছিলো না, অর্থাৎ ওদের চিনার কোনো উপায় নাই, ওরা গিয়ে Crimea এর যে সরকারি বিল্ডিংগুলো আছে ওগুলোকে দখল করে ফেলছে! আর তার পরের দিনই ওরা Crimea এর দুটো এয়ারপোর্ট দখল করছে। পুতিন প্রথমে অস্বীকার করছিলো যে এরা পুতিন এর লোক, কিন্তু পরে গিয়ে স্বীকার করছে যে এরা হলো পুতিনের ‘লিটল গ্রীন ম্যান’। এরপরে মার্চে Crimea তে একটা গণভোট হয় এবং ঐখানে Crimea এর জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে বলছে যে ওরা ইউক্রেনের অংশ হয়ে থাকতে চায় না, ওরা রাশিয়ার অংশ হইতে চায়। এখন USA বলতেছে যে এই গণভোট টা আসলে হয় নাই, তার কারণ এই গণভোট টা হইসে যখন রাশিয়ার মিলিটারি সেনারা Crimea এর মধ্যে অবস্থানরত ছিলো। এরকম অবস্থায় গণভোট করলে তো ওরা রাশিয়ার পক্ষেই ভোট দিবে, ওদের দাবি ছিলো এইরকম। এরপরে মার্চের ২১ তারিখ পুতিন সরাসরি সাইন করে Crimea কে নিজেদের অংশ করে নিসে। 

 

এখন আসা যাক, NATO এর কাহিনীটা আসলে কি হইতেছে?

প্রথম কথা NATO একটা সামরিক জোট, এটার মধ্যে যদি নতুন কোনো দেশ যোগ দেয় তাহলে রাশিয়া সেটা নিয়ে চিল্লাচিল্লি করবে। অপরদিকে USA এবং NATO এর মিত্ররা এতে বাহবা দিবে, সহজ কথা। এখন USA আর NATO এর মিত্রদের সুবিধা হইতেছে যত বেশি দেশ ওরা ওদের জোটে ঢুকাতে পারবে, তত ওরা শক্তিশালী হয়ে যাবে। রাশিয়া এটাকে পছন্দ করে না। সেই কারণে রাশিয়ার Vladimir Putin ৮ দফার একটা প্রস্তাব দিসে। ঐটার আর্টিকেল ৬ এর মধ্যে সরাসরি বলা আছে NATO আর ওদের জোটকে বড় করতে পারবেনা এইদিকে এবং অবশ্যই ইউক্রেন বা তার মত যে রাষ্ট্রগুলো আছে, ওগুলোকে NATO এর ভিতরে নিতে পারবে না।

এখন কথা হইতেছে এটার পিছনে একটা ইতিহাস আছে, চলেন দেখি ২০০৪ সালে কি হইসিলো! তখন NATO এর অনেক নেতৃস্থানীয় মানুষেরা ইউক্রেন আর জর্জিয়াকে NATO তে আসার জন্যে আমন্ত্রণ জানাইছিলো এবং সরাসরি বলছিলো যে ওরা যদি নিজেরা আসতে চায় NATO তে, তাহলে মস্কো বা রাশিয়া তাদেরকে আটকাতে পারবে না! ওরা যদি আসতে চায়, তাহলে তুমি কে ওদেরকে বাধা দেয়ার!

এরপর আসা যাক ২০০৮ সালে, NATO এর সেক্রেটারি জেনারেল Jens Stoltenberg সরাসরি রাশিয়ার একটা দাবি বাতিল করছে। ওরা তখনও দাবি করছিলো এই ইউক্রেন একদিন NATO এর সদস্য হইতে পারে, এরকম যদি কোনো কমিটমেন্ট থাকে তাহলে সেটাকে বাতিল করতে হবে। NATO বলছে যে তারা বাতিল করবেনা। তখন পুতিন ডিসেম্বর ২০২১ এ একটা নিউজ কনফারেন্সে সরাসরি বলছে যে NATO ওদেরকে ১৯৯০ সালে প্রমিজ করছিলো যে ওরা ওদের জোটকে পূর্ব দিকে বাড়াবে না, কিন্তু তারা সেই চুক্তিটা ভঙ্গ করছে।

আপনারা যদি সরাসরি ম্যাপের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন ১৯৯২ সালের আগে যেসব দেশ NATO এর মধ্যে ছিলো, ওগুলোকে আপনারা মোটামুটি চিনেন, যেমন স্পেইন, ফ্রান্স, ইউনাইটেড কিংডম। এমনকি তুরস্কও আছে যেটা আমাদের খুবই প্রিয় একটা দেশ, ওরাও কিন্তু অনেক আগে NATO তে জয়েন করে ফেলছে। কিন্তু এরপরে নতুন যেসব দেশ ১৯৯২ সালের পরে হইসে, যেমন চেক রিপাবলিক, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ইত্যাদি দেশগুলো পূর্বদিকে সরতেছে। ডান দিকের নতুন নতুন দেশগুলো NATO খেয়ে ফেলতেছে বা নিজেদের জোটের মধ্যে নিয়ে নিতেছে এবং এই জায়গাটার ঠিক পরেই ইউক্রেন আছে। এটাকেও NATO চাইতেছে খেয়ে ফেলতে। রাশিয়া এই জিনিসটারই বিরোধীতা জানাইতেছে। 

 

এখন কথা হইতেছে রাশিয়া যদি ইউক্রেনের মধ্যে আক্রমণ করে নিজেদের অংশ করে নেয়, এটা কি ঠিক হবে নাকি ভুল হবে?

এটার সরাসরি কোনো হ্যা বা না উত্তর নাই। কিন্তু ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার অনেক জায়গা থেকেই সম্পর্ক আছে। যেমন পুতিন বলতেছে সোভিয়েত ইউনিয়নের যে বড় বড় লিডাররা ছিলো, ওরা বেশিরভাগই ইউক্রেনিয়ান ছিলো এবং এই কারণে সোভিয়েতের উপর ইউক্রেনের একটা পাওয়ারফুল ইনফ্লুয়েন্স আছে। এমনকি সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ দিকের বিখ্যাত নেতা Mikhail Gorbachev এর মা একজন ইউক্রেনিয়ান ছিলেন। আপনি যদি কালচার বা সংস্কৃতির দিকে আসেন, ইউক্রেনের এক তৃতীয়াংশ মানুষ যারা মূলত পূর্বদিকে থাকে (যেটা রাশিয়ার বর্ডারের কাছাকাছি), ওরা রাশিয়ান ভাষাতেই কথা বলে এবং নিজেদেরকে ভিতরে ভিতরে রাশিয়ানই ভাবে। তাছাড়া ইউক্রেনের পশ্চিমদিকেও বহুত মানুষ আছে যারা রাশিয়ান ভাষায় কথা বলে। তাই ওদের মধ্যে খুবই ক্লোজ একটা রিলেশনশিপ আছে। 

 

এখন কথা হচ্ছে সারা পৃথিবীর মানুষ যেটা নিয়ে ভয় পাচ্ছে সেটা যদি আসলেই ঘটে যায় তখন কি হবে? অর্থাৎ রাশিয়া ইউক্রেনের বর্ডারে সৈন্য দিয়ে শুধু মহড়া না দিয়ে যদি সরাসরি আক্রমণ করে বসে, তখন কি হবে?

শুরুতেই বলে রাখি, কি হবে এটা পুরোপুরি অনুমান, যদিও যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেই তথ্য নিয়ে এই অনুমানগুলো করা হচ্ছে, কিন্তু আসল ঘটনা ঘটে গেলে সেটা এই অনুমানের সাথে না মিলে পুরোপুরি ভিন্নও হতে পারে। তো দেখি, আক্রমণ করলে কি হবে! 

  • প্রথমত NATO এর দেশগুলো ইতোমধ্যে ইউক্রেনকে সাপোর্ট দেয়ার কথা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, সাথে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো শুরু করে দিয়েছে। আবার ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই জার্মানি ইউক্রেনে তাদের মেডিকেল টিম পাঠানোর কথা জানিয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে ঘটনা আরো বাজে হলে USA রাশিয়ার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া শুরু করবে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন তারা রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে আঘাত করবে যদি তারা সৈন্য সরিয়ে না নেয়!
  • আক্রমণ করার প্রথমেই দেখা যেতে পারে SWIFT ফিনান্সিয়াল সিস্টেম থেকে রাশিয়াকে বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আপনারা জানেন, SWIFT এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের ব্যাংক টু ব্যাংক ট্রানজেকশন গুলো সিকিউর ভাবে হয়ে থাকে। এটা নিয়ে এনায়েত ভাই তার মানি হাইস্ট ভিডিওতে কথা বলেছিলো, সেটা একবার দেখে আসতে পারেন। তো এই কাজটা যদি আসলেই করা হয়, তাহলে এটা রাশিয়ান ইকোনমিতে বড় একটা ধাক্কা দিবে। এমনকি এই কারণে রাশিয়া তাদের তেল এবং গ্যাস উৎপাদন করে আন্তর্জাতিকভাবে যে লাভটা পায়, সেটা পুরোপুরি আটকে যাবে। এই তেল আর গ্যাস কিন্তু রাশিয়ার মোট রাজস্বের ৪০% এরও বেশি সরবরাহ করে।
  • এটা ছাড়াও USA চাইলেই রাশিয়াকে তাদের ডলারের একসেস নেওয়া থেকে যেকোনো সময় অবরুদ্ধ করে দিতে পারে। আমরা জানি ডলার এখন বিশ্বজুড়ে লেনদেনে কতটা আধিপত্য বিস্তার করছে। এই তো গেলো ফিনান্সিয়াল ব্যাপার।
  • এটা ছাড়াও USA এর আর্মি জেনারেল Mark Milley এবং ডিফেন্স সেক্রেটারি Lloyd Austin জানিয়েছেন রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করলে USA এবং NATO এর সৈন্যরা মস্কো পর্যন্ত আক্রমণ করতে পারে। Mark Milley এটাও বলেছেন ঘটনা আসলেই ঘটে গেলে মানুষ এমন কিছু ভয়াবহতা দেখতে পাবে যেটা শুধুমাত্র Cold War চলাকালীন সময়েই দেখা যেত। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, by any chance রাশিয়া যদি আসলেই ইউক্রেনকে আক্রমণ করে বসে, তাহলে আমরা বেশ বাজে একটা যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী হতে পারি।

তো আজ এই পর্যন্তই। আশা করি রাশিয়া ও ইউক্রেন ইস্যুটা নিয়ে কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পেরেছি। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

এই সম্পর্কে পুরো ভিডিওটি দেখুন ইউটিউবে! 

Research Affiliates:

Labid Rahat: https://www.youtube.com/channel/UCTio…

Alif Arshad:

https://www.facebook.com/alif.arshad.b

For Gaining more knowledge on this topic:-

A simple guide to the Ukraine-Russia crisis: 5 things to know

Ukraine and Russia explained in maps and charts

Catherine the Great

Partitions of Poland

1991 Ukrainian independence referendum

Białowieża Forest

30 years ago the stroke of a pen in a snowy Belarussian forest changed the world

How Russia invaded Ukraine in 2014. And how the markets tanked

Russia issues list of demands it says must be met to lower tensions in Europe

Partitions of Poland

Russia urges NATO to break 2008 promise to Ukraine

Russia issues a eight-point list of demands

Declaration of Independence of Ukraine

How Ukrainian-origin leaders dominated the Soviet Union

Why Ukraine matters to Russia so much

As Ukraine conflict heats up, so too does disinformation

Ukraine crisis: From Belarus to Japan, where do countries stand?

How NATO’s expansion helped drive Putin to invade Ukraine

STRATEGIC COMMUNICATIONS AND SOCIAL MEDIA IN THE RUSSIA UKRAINE CONFLICT

Ukraine crisis: From Belarus to Japan, where do countries stand?

Leave a Reply

Your email address will not be published.